হরমুজ প্রণালি (Hormuz Strait) যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হবে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। তবে জবাবটি ছিল ব্যঙ্গাত্মক।
ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেট একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের নতুন ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এর মাধ্যমে ট্রাম্পের একতরফা দাবিকে বিদ্রূপ করেছে কনস্যুলেট। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
Hormuz Strait নিয়ে ট্রাম্পের দাবি
শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি পুলিশ একাডেমিতে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইরানকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করার দাবি করেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে প্রণালিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করতে পারেন। তবে ওই মন্তব্য নতুন নীতির ইঙ্গিত কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌ অবরোধে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার দাবি, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ সেখানে চলতে পারবে না।
পরে তিনি ট্রুথ সোশ্যালে একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেন। সেখানে Hormuz Strait-কে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে ইরানের ব্যঙ্গাত্মক মানচিত্র
এরপর হায়দরাবাদের ইরানি কনস্যুলেট পাল্টা একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য নীল রঙে চিহ্নিত ছিল।
ছবিটির ওপর ক্যালিফোর্নিয়াকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড বলা হয়। তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ভূখণ্ড দাবির ঘোষণা ছিল না।
বরং ট্রাম্পের মানচিত্রের অসারতা দেখাতে একই কৌশল ব্যবহার করে কনস্যুলেট। ফলে পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের বিতর্কিত মানচিত্রটি এক্সে পুনরায় প্রকাশ করে। এর পরই ইরানের পাল্টা পোস্টটি সামনে আসে।
Hormuz Strait নিয়ে ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিকে ভ্রান্ত ধারণা বলে উল্লেখ করেন।
গারিবাবাদি বলেন, ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের নাম সঠিকভাবে লিখেছেন। তাই হরমুজ নিয়ে তার ভ্রান্ত ধারণাও শিগগির সংশোধিত হবে।
তার বক্তব্যে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের বিরুদ্ধেও কঠোর বার্তা ছিল। তিনি প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্বের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালির চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে। ফলে Hormuz Strait নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনে দাবির অবস্থান
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক প্রণালি দখল করা যায় না। এর জন্য স্বীকৃত আইনগত ভিত্তি প্রয়োজন।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। তাই এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তব নীতি নাকি রাজনৈতিক চাপ, সেটিও স্পষ্ট নয়। ফলে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
ইরানের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট সেই বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ঘিরে পোস্টটি মূলত প্রতীকী পাল্টা জবাব।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা নির্ধারিত নেই। ট্রাম্প নিজেই আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত Hormuz Strait নিয়ে পাল্টাপাল্টি মানচিত্র রাজনৈতিক বার্তার অংশ হয়ে উঠেছে। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত।
আরও পড়ুন: বাংলাভিউয়ের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ
ভিডিও আপডেট: বাংলাভিউয়ের ভিডিও সংবাদ দেখুন