এজিয়ান সাগরে সামুদ্রিক পার্ক ঘোষণা নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত গ্রিস-তুরস্ক সম্পর্ক

এজিয়ান সাগরে দুটি নতুন জাতীয় সামুদ্রিক পার্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত দুটি প্রেসিডেন্টের ডিক্রির মাধ্যমে এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি পার্ক দক্ষিণ এজিয়ানে মুগলার ফেতহিয়ে ও আন্তালিয়ার কাশ জেলার মধ্যবর্তী এলাকায় এবং অন্যটি উত্তর এজিয়ানে তেকিরদাগ ও চানাক্কালে উপকূলের সন্নিকটে অবস্থিত। আঙ্কারা দাবি করছে, সামুদ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

তবে তুরস্কের এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক অধিকার সংক্রান্ত বিরোধকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। গত বছর গ্রিসও আইওনিয়ান সাগর ও দক্ষিণ সাইক্লাডেস দ্বীপপুঞ্জের আশেপাশে দুটি সামুদ্রিক পার্ক তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। সে সময় তুরস্ক অভিযোগ তুলেছিল যে, পরিবেশ রক্ষার আড়ালে গ্রিস বিতর্কিত সমুদ্রাঞ্চলে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছে। গ্রিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিস বর্তমানে দক্ষিণ এজিয়ান এলাকায় আরও নতুন সামুদ্রিক পার্ক ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা নিয়ে দেশটির আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আগামী অক্টোবরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এজিয়ান সাগরের সীমানা, দ্বীপপুঞ্জ এবং সামুদ্রিক অধিকার নিয়ে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে বহু বছরের পুরোনো বিরোধ বিদ্যমান। এমনকি নব্বইয়ের দশকে এই বিরোধের জেরে দেশ দুটি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও বর্তমানে উভয় দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবুও সমুদ্রসীমা নিয়ে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো এখনো বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তুরস্কের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সমুদ্র সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও তা কোনো দেশের সার্বভৌম অধিকার বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষতি করে করা উচিত নয়। আঙ্কারার মতে, এজিয়ান সাগরের মতো অমীমাংসিত এলাকায় কোনো একতরফা পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান এজিয়ান অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *