সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডো এবং নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। কাগজে-কলমে এখনো নিশ্চিত নয় যে বাংলাদেশ কার বিপক্ষে বা কোথায় খেলবে। বাফুফে এখনো আসিয়ান কাপে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা নিয়ে জাতীয় দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি চরম দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আসিয়ান কাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারত এই টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ফিফা বাংলাদেশের কাছে আগ্রহ জানতে চেয়েছিল। বাফুফে ইতিবাচক সাড়া দিলেও ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। যদি বাংলাদেশ সুযোগ পায়, তবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। ডুলি মনে করেন, শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেবে এবং সাফের আগে দলের জন্য সহায়ক হবে। তবে আসিয়ান কাপে সুযোগ না মিললে কিরগিজস্তান বা লেবাননের মতো দলের বিপক্ষে খেলার বিকল্প পরিকল্পনাও রয়েছে বাফুফের।
ঘরোয়া ফুটবলের পরিস্থিতিও প্রস্তুতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ২৮ ও ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ ফুটবল লিগের প্রথম রাউন্ডের সূচি থাকলেও বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেডের ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞার কারণে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। খেলোয়াড়রা দীর্ঘ সময় অনুশীলনের বাইরে থাকায় তাদের ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডুলি। তার মতে, একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির জন্য ছয় সপ্তাহ প্রয়োজন এবং শতভাগ ফিট হতে আরও পাঁচ থেকে আটটি ম্যাচ খেলতে হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিফা উইন্ডোর আগে খেলোয়াড়দের মাত্র তিন-চারটি সেশন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কোচ আক্ষেপ করে বলেন, কোনো কিছুই প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। জাতীয় দলে এসে খেলোয়াড়দের নতুন করে ফিট করে তোলা সম্ভব নয়, কারণ সেই পর্যাপ্ত সময় হাতে থাকে না। তিনি চেয়েছিলেন দল যেন আগে থেকেই অনুশীলনে থাকে এবং অন্তত ছয়-সাতটি ম্যাচ খেলে প্রস্তুতির ঘাটতি পূরণ করে। তবে বর্তমান বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।
জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর সময়সূচি নিয়ে বাফুফে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে এবং লিগের সূচির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ডুলি জানান, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে, কারণ তারা লিগ বিরতি দিয়ে জাতীয় দলের জন্য বাড়তি সাত দিন অনুশীলনের সুযোগ দেয়। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের অন্তত চার সপ্তাহ আগে ক্যাম্পে পেলে প্রস্তুতিটা দারুণ হতো। আপাতত লিগ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ আন্ডারডগ হিসেবে খেলবে, যা দলের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে বলে মনে করেন ডুলি। তার মতে, খেলোয়াড়রা শতভাগ ফিট থাকলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা সক্ষম। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে আসিয়ান কাপের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি, যাতে দলের আত্মবিশ্বাস বজায় থাকে এবং সাফের জন্য নিখুঁত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়।
কারণ, তারা লিগ কিছুটা আগে থামিয়ে অন্তত বাড়তি ৭ দিন অনুশীলনের সুযোগ দেয়।
সব মিলিয়ে জাতীয় ফুটবল দলকে ঘিরে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দলগুলো এখনো অনুশীলনেই নামতে পারেনি।
আজ বাফুফে ভবন থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকেরা নানা প্রশ্ন ছুড়ে দেন ডুলিকে।
আমরা আসিয়ানে খেলতে চাই এবং আসিয়ানের আয়োজকেরাও (ফিফা) আমাদের পেতে আগ্রহী, যা বেশ আনন্দের।
তবে কাগজে-কলমে না হওয়া পর্যন্ত এটা হবেই বলা যাচ্ছে না।’
যুক্তিও দেন, ‘একটি পেশাদার ক্লাবের প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতি সাধারণত ছয় সপ্তাহের হয় প্রায় ফিট হয়ে ওঠার জন্য, আর শতভাগ ফিট হতে আরও পাঁচ থেকে আটটি ম্যাচ লাগে।
লিগ কবে শুরু হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, যা প্রস্তুতির জন্য সহায়ক নয়।
একপর্যায়ে আক্ষেপ ঝরে কোচের কণ্ঠে, ‘কোনো কিছুই আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না।
কিন্তু এখন এই বাস্তবতার সাথেই আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’
এসব দলের বিপক্ষে খেলে সাফের প্রস্তুতি নিয়ে ডুলির কথা, ‘ওরা আমাদের চেয়ে শক্তিতে এগিয়ে।
শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেললে আমরা ভুলগুলো শুধরে নিতে পারব।
তা ছাড়া আসিয়ান কাপে আমরা বাংলাদেশি সমর্থকদের পাশে পাব।
আসিয়ান কাপে আমরা আন্ডারডগ থাকব, যা আমাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধাও এনে দিতে পারে।’
কোচের কথায়, ‘আসিয়ান কাপে আমাদের খেলার সুযোগ না হলে নিজেদেরই টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে।