মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনে স্কচটেপ মোড়ানো বস্তু উদ্ধারের পর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের মতো চরম জনবহুল পয়েন্টগুলোতে ফেলে রাখা ব্যাগ নিয়ে একের পর এক বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকায়। যদিও ডগ স্কোয়াড ও সিটিটিসির পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত সেগুলো জর্দার কৌটা কিংবা ময়লা-আবর্জনা হিসেবে ‘ফ্লস অ্যালার্ম’ বা মিথ্যা আতঙ্ক প্রমাণিত হয়ে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু রাজধানীর সেই উদ্বেগের আগুনে ঘি ঢালল সাভার-আশুলিয়ায় টানা ১২ দিনে ১৭টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার এবং বরিশালের জজ আদালতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। সাভারে বোমার সাথে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট ও কোডেড মেসেজ উদ্ধার হওয়ায় পুরো ঢাকা জুড়ে জারি করা হয়েছে বিশেষ ‘রেড অ্যালার্ট’। একদিকে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভীতি—সব মিলিয়ে মেগাসিটির ব্যস্ত রাজপথ থেকে শিল্পাঞ্চল জুড়ে এক অজানা শঙ্কা থমকে দিয়েছে নাগরিক জীবনকে।
এদিকে, সাভারের সাদাপুর এলাকার মসজিদের মাঠে পাওয়া কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকারটিকে শক্তিশালী বোমা হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি জনশূন্য করে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। এতে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা ব্যবসায়ী নিবীর হোসেন বলেন, ‘এত শক্তিশালী বোমা, তা জানা ছিল না। যখন নিষ্ক্রিয় করা হয়, তখন বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’ সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে উঠেছে। এটা অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বোমা।
এসব ঘটনায় বোমা আতঙ্ক নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে আগেই জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি গত ২ আগস্ট সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে’ রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আশুলিয়ায় একটি প্রেসার কুকারের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তু এবং মতিঝিলে পাওয়া সন্দেহজনক বস্তুটির বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত কিংবা কোনো ইন্ধন রয়েছে কি-না, তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
গত পাঁচ থেকে ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তুলনামূলক বিচারে দেশে বর্তমানে নাশকতা ও এ ধরনের অপরাধের হার অনেক কম। পরিস্থিতি কোনোভাবেই উদ্বেগজনক নয়।
আগস্ট মাসে বিশেষ সতর্কতা কেন জারি করা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নর উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কিছু রাজনৈতিক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজধানীতে সার্বিক আতঙ্কের সূচনা ঘটে গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইইডির (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) সন্ধান পাওয়ার মধ্য দিয়ে। গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড় ৭টার দিকে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর রুমের পাশে একটি পরিত্যক্ত বিএমডব্লিউ ছাতার ভেতরে টাইমিং সার্কিট, সালফার, বিয়ারিং বল ও তারকাঁটা যুক্ত প্রায় ১.৫ কেজি ওজনের আইইডি উদ্ধার করা হয়। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া উল্টোরথের শোভাযাত্রা ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় আনসার সদস্যদের সতর্কতায় মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখে ছাতাটি শনাক্ত হয়। খবর পেয়ে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সফল বিস্ফোরণের মাধ্যমে এটি নিষ্ক্রিয় করে। তবে নিষ্ক্রিয়করণের স্প্লিন্টারের আঘাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামের এক পথচারী আহত হন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়।
এরপর গত ১ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের লিফটের পাশে পরিত্যক্ত একটি লাল ব্যাগ দেখে পথচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। প্রায় ৫২ মিনিট স্টেশনের স্বাভাবিক ট্রেন ও যাত্রী চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে ব্যাগটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার পর ভেতরে কোনো বিস্ফোরক মেলেনি, কেবল জর্দার কৌটা ও পান পাওয়া যায়। একইদিন দুপুর ১টার দিকে ফার্মগেট স্টেশনের পিলারের কাছে পরিত্যক্ত একটি চটের বস্তা কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তেজগাঁও থানা পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম হাত দিয়ে (হ্যান্ড এন্ট্রি) পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে বস্তায় কেবল সাধারণ বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ছিল।
পরপর এসব ঘটনার পর গত ৩ আগস্ট ফার্মগেট, আগারগাঁও ও মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীরা কাঁধে, হাতে কিংবা ট্রলিতে বড় ব্যাগ ও বস্তা নিয়ে তল্লাশি ছাড়াই নির্বিঘ্নে প্রবেশ করছেন। সচিবালয় স্টেশনের স্ক্যানার বন্ধ ছিল।
ফার্মগেট স্টেশনের এমআরটি পুলিশের এসআই মুশফিকুর রহমান জানান, পর্যাপ্ত হ্যান্ড ডিটেক্টর বা আর্চওয়ে না থাকায় এবং যাত্রীদের ভিড়ে দীর্ঘ লাইন এড়াতে সবাইকে নিয়মিত তল্লাশি করা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রী মো. সেলিম ও তুলি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিরাপত্তার এই ঘাটতি যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ জীবনহানি ঘটাতে পারে।
সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৭টি বোমা উদ্ধার: ঢাকার পরিস্থিতি যখন থমথমে, ঠিক তখনই উপকণ্ঠ সাভার ও আশুলিয়ায় টানা ১২ দিনে (৩০ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট) ১৭টি বোমার সন্ধান মেলে। গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’-এর সামনে বেঞ্চে ফেলে রাখা একটি ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকার আকৃতির টাইমারযুক্ত বোমা উদ্ধার করে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম খোলা মাঠে নিষ্ক্রিয় করে।
এরপর গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক এলাকায় বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একটি হ্যালো বাইকে করে এসে তিন ব্যক্তি ‘জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ’-এর পাশে একটি ড্রাম ফেলে সটকে পড়ে। চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন এগোলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফি ড্রাম খুলে কোরআন শরিফ, কাপড় ও ডায়েরির নিচে স্কচটেপে মোড়ানো একটি ১৫ কেজি ওজনের প্রেশার কুকার বোমা এবং একটি রিমোট কন্ট্রোল দেখতে পান। বোমা ও রিমোটের গায়ে লাল কালিতে ‘R1’ কোডেড সংকেত লেখা ছিল।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম খোলা মাঠে এটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করলে বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুরে র্যাব, এনএসআই, সিটিটিসি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৪টি পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জামসহ ‘নব্য জেএমবি’ সদস্য আরিফ হোসেন (২৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার সব বোমার সাথে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট মেলায় পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে।
বরিশাল জজ আদালতে ককটেল বিস্ফোরণ: সাভারের ঘটনার পরপরই বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল জজ আদালত প্রাঙ্গণে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের মূল ফটকের কাছে ঘটিত হয় ককটেল বিস্ফোরণ। বিকট বিস্ফোরণে আদালতের বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন, সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় বিচারিক কার্যক্রম।
এ ঘটনায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, আগামী ১৬ আগস্ট আদালতে আইনমন্ত্রীর সফর বানচাল ও সমাজে ভীতি তৈরির উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। সিআইডি ও ডিবি ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়ো ও প্লাস্টিকের টুকরো আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে। বিএমপি কমিশনার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে একটি বাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও ৯টি তাজা বোমা।
সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭টি শক্তিশালী বোমা ও জেএমবির লিফলেট উদ্ধার, বরিশাল আদালতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং রাজধানীতে তৈরি হওয়া একের পর এক ‘বোমাতঙ্ক’ নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন।
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ : মতিঝিলে প্রস্তুত আইইডি উদ্ধার কিংবা মিরপুর ও ফার্মগেটে বর্জ্য ও পান-জর্দার কৌটা পড়ে থাকার ঘটনাগুলোর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। উগ্রবাদী বা দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীগুলো সরাসরি বড় হামলা চালাতে না পারলেও মেট্রোরেল স্টেশন বা জনবহুল এলাকাগুলোকে ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে ব্যবহার করে মনস্তাত্ত্বিক ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল গ্রহণ করতে পারে। একে তারা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করার এক ধরনের ‘লজিস্টিক সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।
পুনর্গঠন ও কোডেড সংকেত: সাভারে ১৫ কেজি ওজনের প্রেশার কুকার বোমা, ১৪টি পাইপ বোমা এবং জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট ও বোমার গায়ে ‘R1’ কোডেড সংকেত পাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর নতুন করে সংগঠিত হওয়া (Re-grouping) এবং নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। ‘R1’ সম্ভবত কোনো বিশেষ সেল, কোড নাম অথবা একযোগে হামলার সংকেত (Signal) হিসেবে কাজ করছে, যা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।
অবকাঠামোগত ঘাটতি ও ঝিমিয়ে পড়া নজরদারি: মতিঝিলের ঘটনা এবং তৎপরবর্তী সময়ে ফার্মগেট, মিরপুর ও সচিবালয় মেট্রো স্টেশনে স্ক্যানার বিকল থাকা বা পর্যাপ্ত তল্লাশি ছাড়া মালামাল নিয়ে প্রবেশের চিত্র উঠে আসায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের গণপরিবহন মেট্রোরেলে বিমানবন্দরের মতো শতভাগ স্ক্যানিং ও আর্চওয়ে প্রোটোকল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। পুলিশি নজরদারিতে ঢিলেমি থাকলে উগ্রবাদীরা সাধারণ বস্তা বা ট্রাভেল ব্যাগে করে যে কোনো সময়ে বড় ধরনের বিস্ফোরক বহন করে বড় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে কেবল ‘ফলস অ্যালার্ম’ বলে উড়িয়ে না দিয়ে রাজধানীর সিসিটিভি নেটওয়ার্ক জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি মেট্রোরেলসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) এলাকায় আধুনিক টেকনোলজি এবং পর্যাপ্ত এমআরটি পুলিশ দিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম-সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানান, ১ আগস্টের মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের ব্যাগ ও বস্তায় কোনো বিস্ফোরক মেলেনি, এগুলো স্রেফ ‘ফলস অ্যালার্ম’। মতিঝিলের ২৪ জুলাইয়ের আইইডির সঙ্গে এই দুই ঘটনার সরাসরি কোনো সাংগঠনিক যোগসূত্র মেলেনি। তবে জনবহুল স্থানে নাগরিকদের সচেতনতা প্রশংসনীয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মতিঝিল ও অন্যান্য স্থানের নাশকতার পেছনে কারা আছে তা শনাক্ত করা হচ্ছে। নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে যে কোনো সন্দেহজনক বস্তুর ক্ষেত্রে সরাসরি ৯৯৯ বা নিকটস্থ থানায় তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম ও পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, সাভারে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলোর ধরন অত্যন্ত শক্তিশালী ও মারাত্মক। বোমার উৎস, তৈরির উদ্দেশ্য এবং উদ্ধার জেএমবির লিফলেট ও ‘R1’ সংকেতের নেপথ্য বের করতে উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা দল কাজ করছে। গ্রেপ্তার আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার গুরুকে ধরার জন্য যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি): কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ জানান, বরিশালের জজ আদালতে ককটেল নিক্ষেপকারীদের চিহ্নিত করতে সিআইডি ও ডিবি কাজ করছে।