স্পেনের কিংবদন্তি ফুটবলার এবং বার্সেলোনার সাবেক কোচ জাভি হার্নান্দেজকে নিজেদের জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। এর মাধ্যমে প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি কোচ ডাচ জাতীয় দলের ডাগআউটে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেন। এর আগে ১৯৭৭-৭৮ সালে সর্বশেষ বিদেশি কোচ হিসেবে দলটির দায়িত্বে ছিলেন আর্নস্ট হ্যাপেল। কাকতালীয়ভাবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে নেদারল্যান্ডসের শিরোপা স্বপ্ন ভঙ্গের অন্যতম কারিগর ছিলেন এই সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে মরক্কোর কাছে হেরে নেদারল্যান্ডস বিদায় নেওয়ার পর দলটির কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেন রোনাল্ড ক্যোমান। এরপর লুই ফন গালকে আবারও ফিরিয়ে আনার গুঞ্জন থাকলেও ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শেষ পর্যন্ত জাভিকেই বেছে নেয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে বার্সেলোনার কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ৪৬ বছর বয়সী এই তারকা আর কোনো দলের দায়িত্বে ছিলেন না। মজার ব্যাপার হলো, ২০২১ সালে ক্যোমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েই বার্সেলোনার কোচ হয়েছিলেন জাভি এবং এবার ডাচ জাতীয় দলেও তিনি নিজের সাবেক বার্সা সতীর্থের জায়গা নিলেন।
নতুন চুক্তির ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ডাচদের সাথে কাজ করবেন জাভি। বার্সেলোনা একাডেমিতে ইয়োহান ক্রুইফ এবং রাইন মিচেলসের ফুটবল দর্শনে বেড়ে ওঠায় ডাচ ফুটবলের সাথে নিজের বিশেষ সংযোগের কথা জানিয়েছেন তিনি। নিজেকে ডাচ ফুটবলেরই এক সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে তাকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লুই ফন গাল ও ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের মতো মহান ডাচ কোচদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে লুই ফন গালের অধীনেই বার্সেলোনায় তার পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল বলে তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
নেদারল্যান্ডসের নতুন কোচ হিসেবে জাভি জানান, ডাচ ফুটবল সংস্কৃতি তাকে সবসময় বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। যেখানে বল নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা এবং সৃজনশীলতা, আবেগ ও দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতিফলন থাকে, সেই বৈশিষ্ট্যগুলো ধরে রেখেই তিনি দলকে এগিয়ে নিতে চান। জয়ের লক্ষ্যকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করলেও তিনি এমনভাবে জিততে চান যাতে দর্শকরা খেলাটি পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারেন। ডাচ দলে সেই সম্ভাবনা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো একটি শক্ত ভিত আগে থেকেই তৈরি হয়ে আছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।