পটুয়াখালীর ভূমি কর্মকর্তাদের শাস্তি হিসেবে ছয়জনের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করেছে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন।
এসিআরের নম্বর অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই বিভাগীয় প্রশাসন এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ে তারা পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না।
পটুয়াখালীর ভূমি কর্মকর্তাদের শাস্তি: অভিযোগের বিবরণ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বছরের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন যাচাই করেছে বিভাগীয় প্রশাসন। এতে নম্বর পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার দেওয়া নম্বর পরিবর্তন করেছিলেন অভিযুক্তরা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
অননুমোদিত পরিবর্তন সরকারি নথির গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী। প্রশাসন ঘটনাটিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
তদন্তে শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার ৩(খ) বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া হয়।
বিধিমালার ৪(২)(খ) বিধি অনুযায়ী তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত হয়েছে। শাস্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুনে শেষ হবে।
শাস্তি পাওয়া ছয় কর্মকর্তার পরিচয়
আমখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তানিয়া আক্তার ঝুমা শাস্তি পেয়েছেন। একই তালিকায় রয়েছেন পটুয়াখালী সদরের মোহাম্মদ মাহাতাব।
মাহাতাব বর্তমানে পৌর ভূমি অফিসে সংযুক্ত রয়েছেন। বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ আল কাউছারও দণ্ড পেয়েছেন।
গলাচিপার ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা এ এস এম মুরাদুল ইসলাম তালিকায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ আবু আসকরও শাস্তি পেয়েছেন। দশমিনার রণগোপালদীর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামও দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন।
বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত
অভিযোগ পাওয়ার পর প্রত্যেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক বিভাগীয় মামলা করা হয়। তাদের কারণ দর্শানোর সুযোগ দেয় কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্তরা নির্ধারিত সময়ে লিখিত জবাব জমা দেন। ব্যক্তিগত শুনানিতেও তারা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
এরপর সংশ্লিষ্ট তথ্য, প্রতিবেদন ও নথিপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘ পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
বুধবার বিভাগীয় মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়। এতে ছয় কর্মকর্তার জন্য একই শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে।
শাস্তির আদেশ প্রত্যেক কর্মকর্তার চাকরির নথিতে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ হবে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তাদের পদোন্নতিও বন্ধ থাকবে।
পটুয়াখালীর ভূমি কর্মকর্তাদের শাস্তি ও কঠোর বার্তা
পটুয়াখালীর ভূমি কর্মকর্তাদের শাস্তি প্রশাসনে কঠোর বার্তা দিয়েছে। সরকারি নথির যথার্থতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ দায়িত্ব পালনে সততা ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলেছেন।
তার মতে, নথিতে অননুমোদিত পরিবর্তন প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্য বিকৃতির অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত হবে।
প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিভাগীয় প্রশাসন নথির নির্ভুলতাকে জবাবদিহির প্রধান ভিত্তি মনে করে। তাই অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
পটুয়াখালীর ভূমি কর্মকর্তাদের শাস্তি অন্য সরকারি কর্মচারীদের জন্যও সতর্কবার্তা। সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাভিউয়ের সর্বশেষ জাতীয় সংবাদ।
ভিডিও সংবাদ: বাংলাভিউয়ের ভিডিও সংবাদ দেখুন।