গণপূর্তের প্রকৌশলী মইনুলের বিরুদ্ধে ২.৬৩ কোটি টাকার আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকার সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ না করেই মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে দরপত্র আহ্বানের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ঢাকার তেজগাঁওস্থ সরকারি মুদ্রণালয় ও বিজি প্রেসের বিভিন্ন সংস্কার ও মেরামত কাজের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪টি কাজের মেয়াদ গত মে মাসে এবং ২টি কাজের মেয়াদ গত ২৪ জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে জুন ক্লোজিং পার হয়ে গেলেও সরেজমিনে দেখা যায়—সীমানা প্রাচীর উঁচুকরণ, কনফিডেন্সিয়াল ও বাইন্ডিং বিভাগের ছাদ সংস্কার এবং প্রধান ফটক নির্মাণের সিংহভাগ কাজই অসম্পূর্ণ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ না হলে অর্থ কোষাগারে ফেরত যাওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অর্থ বছর শেষে টাকা ফেরত না পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের অনৈতিক আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কাগজপত্রে কাজ ‘সম্পন্ন’ দেখিয়ে শতভাগ বিল ছাড় করা হয়েছে।

 

  • বাইন্ডিং বিভাগ ছাদ সংস্কার: ১ কোটি ৪০ লাখ

টাকাকনফিডেন্সিয়াল শাখা ছাদ সংস্কার: ৭০ লাখ টাকাদক্ষিণ ও পূর্ব সীমানা প্রাচীর ও কাঁটাতারের বেড়া: ২২ লাখ টাকাপশ্চিম সীমানা প্রাচীর মেরামত: ১৮ লাখ টাকাপ্রশাসনিক ভবন বহির্ভাগ সংস্কার: ৮ লাখ টাকাস্টাফ কোয়ার্টার প্রধান ফটক নির্মাণ: ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা

কমিশনের বিনিময়ে নিজস্ব পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্দেশ ছিল সব দরপত্র এলটিএম (LTM) পদ্ধতিতে আহ্বান করার, কিন্তু প্রকৌশলী মইনুল তা উপেক্ষা করে ৬টি কাজের জন্যই ওটিএম (OTM) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করেন।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR) এবং সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী, কাজ শেষ না করে এবং মেজারমেন্ট বুকে (MB) রেকর্ড ছাড়া বিল পরিশোধ করা গুরুতর অপরাধ। আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, চাকরিচ্যুতকরণ, জরিমানা এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতির টাকা বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলামেরমুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *