শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করলেন ডনাল্ড ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করলেন ডনাল্ড ট্রাম্প

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করলেন ডনাল্ড ট্রাম্প

কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১২টা ১ মিনিটে শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। পরে হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় শুল্ক কার্যকরের নতুন সময় নির্ধারণ করা হয় ২২ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিট, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময়।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, চূড়ান্ত নথিপত্র সম্পন্ন হওয়ার শর্তে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ কারণেই ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিও বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য আরও কাজ বাকি রয়েছে।

প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। গত ২০ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, মদ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কানাডার নীতিতে বৈষম্য রয়েছে। ওয়াইন, হকি সরঞ্জাম, দুগ্ধজাত পণ্য ও কিছু কাঠজাত পণ্যসহ বিভিন্ন কানাডীয় পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় পড়ার কথা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি

শুল্ক কার্যকর হওয়া ঠেকাতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে জোর আলোচনা চলে। মার্ক কারনি ও ডনাল্ড ট্রাম্প গত দুই দিনে দুবার ফোনে কথা বলেন। দুই দেশের আলোচনাকারীরাও গাড়ি, মদ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কানাডার ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল অটোয়া। ফলে শেষ মুহূর্তের এই স্থগিতাদেশ দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আপাতত স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন ২২ আগস্টের নতুন সময়সীমার আগে চূড়ান্ত নথিপত্র সম্পন্ন হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আলোচনায় কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন

শুল্ক স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার সময় বিতর্কিত কিস্টোন এক্সএল তেল পাইপলাইন প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন আবারও চালু হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পাইপলাইনটি বাণিজ্য সমঝোতার অংশ কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

কানাডার আলবার্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য কিস্টোন এক্সএল প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাইপলাইনটির প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকার কথা ছিল। বারাক ওবামার প্রশাসন ২০১৫ সালে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন প্রত্যাখ্যান করলেও ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেটি পুনরুজ্জীবিত করেন। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সীমান্ত অতিক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি বাতিল করার পর প্রকল্পটির মালিক প্রতিষ্ঠান টিসি এনার্জি শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে কিস্টোন এক্সএল প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। তবে ট্রাম্প বরাবরই প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য সমঝোতায় পাইপলাইনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইউএস-বাংলার টিকিটিং নীতিতে বাড়ছে এজেন্সিগুলোর আর্থিক ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪২ এম
ইউএস-বাংলার টিকিটিং নীতিতে বাড়ছে এজেন্সিগুলোর আর্থিক ঝুঁকি

ইউএস-বাংলার টিকিটিং নীতি নিয়ে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জিডিএস-ইস্যুকৃত টিকিট বাতিল, এডিএম এবং অনিয়মিত বুকিং নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে বেসরকারি বিমান সংস্থাটি।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইস্যু করা টিকিট একই দিনে বাতিল করতে হবে। সেটিও প্রথম ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে করতে হবে। একই সঙ্গে বুকিংয়ের সব ফ্লাইট সেগমেন্ট একসঙ্গে বাতিল করতে হবে।

ইউএস-বাংলার টিকিটিং নীতিতে কোথায় কড়াকড়ি

উদাহরণ হিসেবে ঢাকা-দুবাই-মদিনা রুটের কোনো একটি সেগমেন্ট রেখে অন্যটি বাতিল করা যাবে না। এমন কার্যক্রম নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল কার্যত নিষিদ্ধের পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

নিয়ম ভাঙলে ১০০ মার্কিন ডলার জরিমানা আরোপ হতে পারে। এর সঙ্গে প্রযোজ্য নো-শো চার্জ এবং অতিরিক্ত ৫০ ডলার প্রশাসনিক ফিও যোগ হতে পারে।

ফলে ছোট ভুলও এজেন্সির জন্য বড় আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আগে অনেক ক্ষেত্রে ভুল সংশোধনের সুযোগ ছিল। তবে নতুন কড়াকড়িতে পরিবারভিত্তিক বা দলীয় বুকিংয়ে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

ভ্রমণ ও এভিয়েশনের আরও খবর জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও জানুন বিভাগ দেখতে পারেন।

এজেন্সিগুলোর জন্য বাড়ছে সতর্কতার প্রয়োজন

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতে টিকিট ইস্যু করে আসন আটকে রাখার অভিযোগ ছিল।

ফ্লাইট সেগমেন্ট বাতিল না করেই টিকিট বাতিল দেখানোর ঘটনাও ঘটত। শেষ মুহূর্তের বুকিং ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও ছিল।

নতুন নীতির লক্ষ্য এসব অনিয়ম কমানো এবং আসন ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল করা। খাতসংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে পেশাদার এজেন্টদের জন্য এটি ইতিবাচক হতে পারে।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে এজেন্সিগুলোকে এখন আরও সতর্ক থাকতে হবে।

ভিসা জটিলতা, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা যাত্রীর হঠাৎ পরিকল্পনা বদল বিশেষ সমস্যা তৈরি করতে পারে।

কারণ সময় ঘনিয়ে এলে জরিমানা এড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

এদিকে ইউএস-বাংলার অফিসিয়াল নীতিতে এজেন্সি থেকে কেনা টিকিটের রিফান্ড সংশ্লিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমেই করতে বলা হয়েছে।

সেখানে বাতিল চার্জ টিকিটের ভাড়ার শর্ত অনুযায়ী প্রযোজ্য হওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

যাত্রীদেরও টিকিট ইস্যুর আগে তারিখ, গন্তব্য, পাসপোর্ট তথ্য এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

ইউএস-বাংলার টিকিটিং নীতি সম্পর্কে আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা আপিলে ৯১ শতাংশ নাম ফিরল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৪ এম
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা আপিলে ৯১ শতাংশ নাম ফিরল

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের আপিল নিষ্পত্তিতে ৯১ শতাংশের বেশি নাম আবার তালিকায় ফিরেছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর এই তথ্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

নির্বাচন কমিশনের আরটিআই তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৮২ হাজার ৭৮২টি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ হাজার ৪৪৩ জনের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা আপিলে ৯১ শতাংশ নাম ফিরল

নিষ্পত্তি হওয়া আপিলের মধ্যে সাত হাজার ৩৩৯ জনের নাম তালিকার বাইরে রয়ে গেছে।

অর্থাৎ সিদ্ধান্ত হওয়া মামলার ৯১ দশমিক ১৩ শতাংশেই ভোটারের নাম পুনর্বহাল হয়েছে।

কংগ্রেস সংসদ সদস্য ইশা খান চৌধুরীর তথ্য অধিকার আবেদনের জবাবে এসব পরিসংখ্যান দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আরটিআই তথ্যটি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩৮ লাখ ১০ হাজার ৬২০টি আপিল জমা পড়েছিল।

তবে এর মধ্যে মাত্র ৮২ হাজার ৭৮২টির নিষ্পত্তি হয়েছে, যা মোট আপিলের ২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

ফলে ৩৭ লাখ ২৭ হাজার ৮৩৮টি আপিল তখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।

ভারতের নির্বাচনসংক্রান্ত আরও খবর জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও জানুন বিভাগ দেখতে পারেন।

আপিলের সংখ্যায় বড় অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন

আরটিআই তথ্যে আপিলের মোট সংখ্যা নিয়েও বড় পার্থক্য সামনে এসেছে। এসআইআর পর্যালোচনায় ২৭ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ ভোটারকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

কিন্তু আপিল জমা পড়েছে ৩৮ লাখ ১০ হাজার ৬২০টি। অর্থাৎ অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ভোটারের তুলনায় আপিলের সংখ্যা ১০ লাখ ৮২ হাজার ১২০টি বেশি।

ইশা খান চৌধুরী এই পার্থক্যের ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনের কাছে চেয়েছেন।

তার অভিযোগ, অতিরিক্ত আপিলের একটি অংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে কমিশন বা অন্য পক্ষ থেকে করা হয়েছে।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পৃথক ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ফলে আপিলের সংখ্যা কেন অযোগ্য ভোটারের চেয়ে বেশি, সেই প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ইশা খান চৌধুরীর মতে, বিপুলসংখ্যক সফল আপিল প্রাথমিক বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

তার দাবি, প্রকৃত ভোটারদের অনেকে প্রথম পর্যায়ে তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পরিসংখ্যান এখন রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন বিষয় হয়ে উঠেছে। পরবর্তী আপডেট আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করতে পারেন।

নাগরিক নিরাপত্তায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ জরুরি, বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাভিউ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৫ এম
নাগরিক নিরাপত্তায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ জরুরি, বাড়ছে উদ্বেগ

নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

সরকার গঠনের শুরুতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

তবে গত ছয় মাসের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসের তুলনায় চলতি বছর খুন বেড়েছে।

নাগরিক নিরাপত্তা বাড়ছে উদ্বেগ

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য নিয়েও নিহতদের স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অনুসন্ধানে ছয় মাসে একই পরিবারের একাধিক সদস্য হত্যার ১৮টি ঘটনা পাওয়া গেছে।

এসব ঘটনায় মোট ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ভুক্তভোগীদের নিজেদের ঘর বা বাড়িতে।

ফলে মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও খবর জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও জানুন বিভাগ দেখতে পারেন।

মাদক নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তে গুরুত্ব

খুনের বিভিন্ন ঘটনায় মাদক, জমি বা সম্পত্তি বিরোধ এবং পারিবারিক কলহের বিষয় সামনে এসেছে।

রংপুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। লক্ষ্মীপুরের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই তথ্য এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবাসহ সিনথেটিক মাদকের বিস্তার অপরাধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে উৎসমুখে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তিশালী নজরদারি প্রয়োজন।

রংপুরের চার হত্যার বিশ্বাসযোগ্য তদন্তও পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

যৌক্তিক সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জোরালো হয়েছে।

এদিকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের হারও ঊর্ধ্বমুখী বলে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। তাই শুধু অগ্রাধিকারের ঘোষণা নয়, দৃশ্যমান ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন জরুরি।

নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘরে-বাইরে মানুষের নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণ, পেশাদার তদন্ত এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরবর্তী আপডেট আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করতে পারেন।