কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ: জাপান-রাশিয়ার দেড়শ বছরের পুরোনো ভূখণ্ড বিরোধ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পুতিনের এই সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাপান কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মস্কো জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দুই দেশের মধ্যকার এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর নিয়ে জাপানের প্রতিবাদ

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পুতিনের এই সফরকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। জাপানের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী, কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি দ্বীপ তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড।

অন্যদিকে, রাশিয়া এই দ্বীপগুলোকে নিজেদের কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। ফলে ১৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই দ্বীপ বিরোধ আবারও জাপান-রাশিয়া সম্পর্কের বড় বাধা হয়ে উঠেছে।

যে কারণে শুরু হয়েছিল কুরিল দ্বীপপুঞ্জ বিরোধ

রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার এই বিরোধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিক থেকে চলে আসছে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের কাছের চারটি দ্বীপ দখল করে নেয়।

জাপানে এগুলো ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ নামে পরিচিত হলেও রাশিয়ার কাছে এগুলো কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অংশ। বিরোধপূর্ণ দ্বীপগুলো শুধু ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; এসব এলাকার আশপাশে রয়েছে সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা।

কুরিল দ্বীপগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব

দ্বীপগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ওখোৎস্ক সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত এবং রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর জাপানের নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে পুতিনের এই সফর পুরোনো ভূখণ্ড বিরোধকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *