চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর পুলিশের তল্লাশিচৌকি ও দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প থাকলেও বিদ্যুৎ-পানির অংশ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে। গত মার্চে প্রশাসনের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার পর চলাচল সহজ হয়েছে এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের আনাগোনা নেই। তবু হামলার ঘটনায় ভয় কাটেনি।
এম এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন বাজারের দোকানদার শাহ আলম সরকারি বিল পান না; ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদের রসিদে ‘বিদ্যুৎ অফিসে’ নগদ টাকা দেন। পিডিবির হিসাবে বৈধ মূল সংযোগ ২২টি, সেখান থেকে সাবলাইন ছড়িয়েছে।
চারটি সংযোগ মো. ইয়াসিনের নামে। বকেয়া ৭২ লাখ টাকার মধ্যে ৪৪ লাখ পরিশোধ হয়েছে; অবশিষ্ট ২৮ লাখের সময়সীমা ২০ আগস্ট পেরোনোর পর ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
টাকা ওঠার পরও বকেয়ার ব্যাখ্যা মেলেনি। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছানা উল্লাহ বলেন, যাচাই চলছে; একসঙ্গে সংযোগ কাটলে পুলিশ ক্যাম্প, পানির পাম্প ও সরকারি কাজও বিঘ্নিত হবে।
পানি ব্যবহারে এলাকাভেদে টাকা লাগে, কিন্তু সরকারি হিসাব নেই। ২৬ জুলাই আলীনগরের অস্থায়ী ক্যাম্পের পানির পাইপ কেটে বিষাক্ত বা কীটনাশকজাতীয় পদার্থ ঢোকানোর আলামত পাওয়ার কথা পুলিশ জানিয়েছে; মামলা হয়েছে।
পানি পান করে তিন পুলিশ সদস্য অসুস্থ হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পুলিশের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করে ইয়াসিন, রোকন ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলার কথা বলেছেন।
জেলা প্রশাসনের আগের বক্তব্যেও অনানুষ্ঠানিক জমি বরাদ্দ ও বিদ্যুৎ-সংযোগের কথা রয়েছে। দ্রুত আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের X অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করুন।
৯ মার্চ ৩ হাজার ১৭৩ সদস্যের যৌথ অভিযানে ২২ জন গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র-গুলি উদ্ধার হয়। কিন্তু ২৪ মে রাতে ক্যাম্পে গুলি, বুলডোজারে অবকাঠামো ভাঙা ও চার জায়গায় রাস্তা কাটার ঘটনা ঘটে।
অন্তত ৩০টি পাহাড় কেটে প্লট করা হয়েছে; স্থানীয়দের দাবি, ২৬ হাজার ছোট প্লটের ২৩ হাজার বিক্রি হয়েছে। ২০২২ সালের নথিতে খাসজমি ৩ হাজার ১০০ একর হলেও বর্তমান জেলা প্রশাসকের হিসাবে প্রায় এক হাজার একর। ব্যাখ্যাহীন এই অমিলের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রশ্নমুক্ত হয়নি।
সরকারি জমি দখল নিয়ে বাংলাভিউয়ের আরও একটি অনুসন্ধান পড়তে পারেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের WhatsApp চ্যানেল অনুসরণ করুন।