
চুল চিটচিটে হওয়ার কারণ শুধু গরম বা আর্দ্র আবহাওয়া নয়। দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও মাথার ত্বকে তেল দ্রুত জমাতে পারে। ফলে শ্যাম্পুর একদিন পরই চুল ভারী ও তৈলাক্ত মনে হতে পারে।
প্রথমত, অপরিষ্কার চিরুনিতে তেল, মৃত কোষ এবং হেয়ার প্রোডাক্ট জমে থাকে।
তাই পরিষ্কার চুলেও সেই ময়লা আবার ফিরে আসতে পারে। চুলের যত্নসংক্রান্ত তথ্য পেতে আরও জানুন বিভাগ দেখুন।
চুল চিটচিটে হওয়ার কারণ হিসেবে যেসব অভ্যাস দায়ী
দ্বিতীয়ত, রাতে শক্ত পনিটেল বা খোঁপা বাঁধলেও গোড়ায় তেল জমতে পারে। তৃতীয়ত, অতিরিক্ত ঘাম এবং আর্দ্রতা চুল ভারী করে।
এছাড়া বাইরে থেকে ফিরে মাথার ত্বক অপরিষ্কার রাখলে ধুলাবালু সমস্যা বাড়ায়।
চতুর্থত, বারবার চুলে হাত দিলে আঙুলের তেল ও ময়লা চুলে ছড়িয়ে পড়ে। পঞ্চমত, শাইন সিরাম বা স্টাইলিং পণ্য গোড়ায় লাগালে চুল চিটচিটে দেখায়।
তাই এসব পণ্য মাঝামাঝি অংশ থেকে আগা পর্যন্ত ব্যবহার করা ভালো।
ষষ্ঠত, চুলের ধরন না বুঝে ভারী শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহারেও সমস্যা বাড়তে পারে। কন্ডিশনার মাথার ত্বকের বদলে আগার দিকে ব্যবহার করা বেশি উপযোগী।
অন্যের উপযোগী পণ্য আপনার চুলেও একইভাবে কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
শ্যাম্পু, হরমোন ও মাথার ত্বকের সমস্যায় সতর্কতা
সপ্তমত, অতিরিক্ত শ্যাম্পু চুলের স্বাভাবিক তেল সরিয়ে রুক্ষতা ও ভঙ্গুরতা বাড়াতে পারে।
তবে তৈলাক্ত মাথার ত্বকে নিয়মিত ধোয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই চুলের ধরন অনুযায়ী ধোয়ার রুটিন ঠিক করা জরুরি।
অষ্টমত, হরমোনের পরিবর্তনে মাথার ত্বকের তেল উৎপাদন বদলে যেতে পারে। বয়স, কিছু ওষুধ বা গর্ভাবস্থার সঙ্গেও এমন পরিবর্তন যুক্ত থাকতে পারে।
তবে পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
নবমত, চিটচিটে ভাবের সঙ্গে খুশকি, চুলকানি বা লালচে ভাব থাকলে সেবোরিক ডার্মাটাইটিস থাকতে পারে।
এমন সমস্যা না কমলে চর্মরোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ দেখুন।
দশমত, সুষম খাদ্যের অভাব চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে চুল চিটচিটে হলেই ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়। বরং পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং ভারসাম্যপূর্ণ পরিচর্যায় গুরুত্ব দিন।
সবশেষে, চুল পরিষ্কার রাখতে অতিরিক্ত চেষ্টা কখনো উল্টো সমস্যা বাড়াতে পারে।
তাই প্রয়োজন অনুযায়ী শ্যাম্পু করুন এবং চুলকে কিছুটা স্বাভাবিক থাকতে দিন। সমস্যা স্থায়ী হলে বা অস্বাভাবিক চুল পড়লে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।