ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও দেশের ভাগ্য নির্ধারণে কোনো প্রকার বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
মূলত মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা কোনো পরাশক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পুনর্নির্ধারণের সুযোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।
ফলে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে দেশটি।
তেহরান-বাগদাদ সম্পর্ক ও বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ
তিনি আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গঠনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ঠেকানোর এই অভিন্ন সংকল্প তেহরান ও বাগদাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।
কারণ দুই প্রতিবেশী দেশের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে গভীর ইতিহাস, ভূগোল এবং অভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের শক্তিশালী স্তম্ভের ওপর।
তাই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নিরাপত্তা সহযোগিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এছাড়া ভৌগোলিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সংযোগকে নতুনভাবে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের যৌথ অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
অন্যদিকে পশ্চিমের যেকোনো অন্যায় চাপ উপেক্ষা করে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবে বলে তেহরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
♻️ আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির এমন খবরের বিস্তারিত তথ্য জানতে বাংলাভিউ ভিজিট করে আরও জানুন।
পশ্চিমের প্রভাব প্রতিরোধে মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থান
ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে স্পিকার গালিবাফ দাবি করেন যে ইতিহাসে ইরান ও ইরাক এমন দুটি স্বাধীন জাতি হিসেবে টিকে থাকবে, যারা পরাশক্তিদের নিয়ন্ত্রণে চলতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
তাছাড়া দুই দেশের ভাগ্য কখনো পশ্চিমা কোনো দেশের রাজধানীতে বসে নির্ধারিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না বলে তিনি সতর্ক বার্তা প্রকাশ করেন।
সুতরাং স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তারা নিজেদের পথ নিজেই তৈরি করবে।
সাম্রাজ্যবাদী নীতি এবং অন্যায্য রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাধীন জাতির ওপর নিজেদের মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আর সফল হবে না।
এরপর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে দুই প্রতিবেশী দেশ একযোগে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে বহিরাগত প্রভাব বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
পরিশেষে বলা যায় যে কোনো প্রকার বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন সুসংহত করতে বদ্ধপরিকর মধ্যপ্রাচ্যের এই দুটি দেশ।
ফলে সামনের দিনগুলোতে পশ্চিমের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মোড় নিতে পারে।
♻️ এই বিশ্ব সংবাদের সব তাজা আপডেট পেতে আমাদের অফিশিয়াল এক্স পেজে আরও জানতে ক্লিক করুন।