দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই সংকট উত্তরণে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন। বর্তমান সরকার বিগত প্রশাসনের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে এই চ্যালেঞ্জগুলো পেয়েছে, তবে তা দ্রুত নিরসনে কাজ চলছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থলভাগে গ্যাস সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আসবে। মন্ত্রী জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকলেও সঞ্চালন ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ‘এনার্জি মিক্স’ বা জ্বালানি মিশ্রণ নীতি নিয়ে সরকার কাজ করছে।
রাজস্ব খাতের সংস্কারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগে বিভক্ত করা হবে। এর ফলে কর নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের কাজ আলাদা হয়ে যাবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব আমলাদের হাতে না রেখে বিশেষজ্ঞ গ্রুপের হাতে ন্যস্ত করা হবে। এছাড়া কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল ও রিফান্ডসহ সব সেবা রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে অনলাইনে পাওয়া যাবে।
সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বা ডি-রেগুলেশন কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স প্রতিদিন সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং ঘোষিত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে এই সংস্কারগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সমন্বিত জ্বালানি নীতি এবং রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে অচিরেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে। তিনি বলেন, সরকার কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দুই বছরের সময়সীমার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সরকার তার প্রতিটি পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরিশেষে, সরকার ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে বিশেষজ্ঞ নির্ভর করনীতি এবং জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।