সরকারের সমালোচনা বা সরকারের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। তবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ন্যারেটিভ তৈরি করা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সমালোচনা করা বা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার মানুষের রয়েছে। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ন্যারেটিভ তৈরি হলেও এ কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে দেশ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি হলে তা কঠোর হাতে মোকাবিলা করা হবে।
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনটিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার বিষয়ে কাজ চলছে।
নিজেও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইন কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না। সরকারের সমালোচনা বন্ধ করাও এর উদ্দেশ্য নয়। তবে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে অপতথ্য বা ন্যারেটিভ ছড়ানো হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং নৈতিক অবক্ষয় রোধেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, শুধু আইন করে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, জেনে-শুনে অপতথ্য ছড়ানো বা এমন তথ্যের পক্ষে লাইক ও কমেন্ট করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ সময় দেশের তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী।
সভায় ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে কার্যকর আইনি কাঠামোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের একটি দিন শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানও অপতথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উম্মে হাবীবা মীরা। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।