যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলমান সংঘাত দীর্ঘ হলে ইরানের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর হামলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে—এমন বার্তা দেওয়াও তেহরানের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
- সংঘাত দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নাকদি জানান, ইরান এমন একটি প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দেশ তাদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করে।
তার মতে, দীর্ঘ সংঘাতের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে তোলা এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো ইরানের কৌশলের অংশ হতে পারে।
- পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে সেটি ওয়াশিংটনের জন্য বড় ভুল হবে বলে মন্তব্য করেন নাকদি। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে।
তবে ইরান নিজে পারমাণবিক বোমা তৈরির পরিকল্পনা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর প্রয়োজন নেই। ইরানের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে জনগণের প্রতিরোধ ও বিশ্বাসকে উল্লেখ করেন তিনি।
- ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে দাবি
ইরান শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও দাবি করেন আইআরজিসির এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে তেহরান।
নাকদি আরও দাবি করেন, ইরানে নিরাপদ ও গোপন ব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চলছে। সংঘাত দীর্ঘ হলেও যুদ্ধের শেষ দিন পর্যন্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বজায় থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
- আলোচনা থমকে থাকার দাবি
এদিকে চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। একটি জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, গত জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করা এবং সেটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা স্থবির রয়েছে।
দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত না মানার অভিযোগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। অন্যদিকে ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার ও অবরুদ্ধ ব্যাংক সম্পদ ছাড়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।
এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।