
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ, এখন শুধু হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের দ্বন্দ্ব নয়। দেশটির ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়েছে একাধিক রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠী। তাদের প্রত্যেকের আলাদা স্বার্থ, আঞ্চলিক সমর্থন ও নিয়ন্ত্রণক্ষেত্র রয়েছে।
ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের সমীকরণও সময়ের সঙ্গে আরও জটিল হয়েছে। রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলন, যারা নিজেদের আনসার আল্লাহ নামে পরিচয় দেয়।
২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের চাপের মুখেও তারা ক্ষমতার কেন্দ্র ধরে রেখেছে। —আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা এবং ইসরায়েলমুখী আক্রমণ তাদের প্রভাবকে ইয়েমেনের সীমানার বাইরে নিয়ে গেছে।
হুথিবিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক কেন্দ্র প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল বা পিএলসি। ২০২২ সালে গঠিত এই কাঠামোর উদ্দেশ্য ছিল বিভক্ত হুথিবিরোধী শক্তিগুলোকে একটি ছাতার নিচে আনা।
প্রশাসনিক কাজ চালানো এবং রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি করাও এর দায়িত্ব। তবে এই জোট একক রাজনৈতিক শক্তি নয়। ইসলাহ পার্টি নিজস্ব সাংগঠনিক ভিত্তি ধরে রেখেছে।
দলটির ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে তারেক সালেহের ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসও আলাদা সামরিক প্রভাব বজায় রেখেছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা তারেক সালেহ হুথিবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন।
ফলে হুথিবিরোধী শিবিরের ভেতরেও ক্ষমতা, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নিয়ে ভিন্ন হিসাব রয়েছে।
ইয়েমেনের যুদ্ধকে শুধু হুথি ও সরকারের সংঘাত হিসেবে দেখলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না; হুথিবিরোধী শিবিরের ভেতরেও রয়েছে আলাদা ক্ষমতার কেন্দ্র।
সৌদি আরব ২০১৫ সালে হাদি সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধে সরাসরি জড়ায়। কিন্তু ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ ইয়েমেন নীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করে।
সংঘাতের সামরিক সমাধানের বদলে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তাও তখন বেশি গুরুত্ব পায়।
মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সর্বশেষ আপডেট পেতে এক্সে দৈনিক বাংলাভিউয়ের সঙ্গে যুক্ত হোন।
২০২৩ সালের পর হুথিদের লোহিত সাগর অভিযান ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ, কে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক পদক্ষেপও সেই চাপ বাড়িয়েছে।
দক্ষিণ সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হুথি হামলা আবারও দেখিয়েছে, সীমান্তের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তাও এই সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে।
এ কারণে ইয়েমেন সংকটকে কেবল গৃহযুদ্ধ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সৌদি-ইরান প্রতিদ্বন্দ্বিতা, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কূটনীতি—সব মিলিয়েই যুদ্ধের বর্তমান সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
স্থায়ী সমাধানের জন্য তাই সামরিক ভারসাম্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমঝোতাও নির্ধারক হয়ে উঠেছে।