ষাটগম্বুজ মসজিদে টিকটক, রিলস ও উচ্চ শব্দে ভিডিও তৈরির অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা। তাদের দাবি, এমন কর্মকাণ্ড ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাটির পরিবেশ ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে।
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য ‘Historic Mosque City of Bagerhat’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বহু পর্যটক মসজিদটি দেখতে আসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু দর্শনার্থী মসজিদ প্রাঙ্গণে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে ভিডিও তৈরি করেন। কেউ কেউ টিকটক ও রিলসের জন্য অশোভন অঙ্গভঙ্গিও করেন।
এতে ধর্মীয় পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। কুষ্টিয়া থেকে আসা দর্শনার্থী তারিকুল ইসলাম বলেন, মানুষ ইতিহাস ও ঐতিহ্য দেখতে ষাটগম্বুজে আসেন।
তবে কর্মরত কিছু কর্মীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ষাটগম্বুজ বায়তুশ শরফ আদর্শ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আসলাম হোসেনও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তার মতে, কর্তৃপক্ষ আরও দায়িত্বশীল হলে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সচেতন নাগরিকরা মসজিদ এলাকায় সিসিটিভির আওতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য স্পষ্ট আচরণবিধি এবং কার্যকর নিরাপত্তা নজরদারির কথাও বলেছেন তারা।
মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাস্টডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ বলেন, অনেক দর্শনার্থী গোপনে টিকটক, ছবি ও রিলস তৈরির চেষ্টা করেন।
বিষয়টি নজরে এলে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আরও সতর্ক নজরদারি করা হবে বলেও জানিয়েছেন কাস্টডিয়ান।
তবে কর্মীদের গাফিলতির অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
সচেতন মহলের দাবি, পর্যটন ও ধর্মীয় মর্যাদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বিশ্ব ঐতিহ্যটির পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।
এজন্য দর্শনার্থী ও কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
দেশের ঐতিহ্য ও পর্যটনের আরও খবর পড়ুন দৈনিক বাংলাভিউয়ে।
সর্বশেষ আপডেট পেতে অনুসরণ করুন দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স অ্যাকাউন্ট।