সাতকানিয়া উপজেলার আংশিক ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি উপজেলা গঠনের প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-১ শাখা থেকে এ বিষয়ে চিঠি জারি করা হয়। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদের ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
তবে এটি এখনো উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন নয়; প্রস্তাব প্রস্তুত ও যাচাইয়ের প্রশাসনিক ধাপ শুরু হয়েছে। জাতীয় থেকে আরও পড়ুন...
নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবটি ২০০৮ সালের ২৪ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রের শর্ত মেনে প্রস্তুত করতে হবে। জেলা প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, আয়তন, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সুবিধার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
স্থানীয় জনগণের সেবা পাওয়ার সুবিধা, বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামো এবং প্রস্তাবিত এলাকার বাস্তব প্রয়োজনও মূল্যায়নের অংশ হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই আলাদা উপজেলা গঠনের যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে।
নতুন উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো হয়নি।
প্রথমে জেলা প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব ও বিভাগীয় কমিশনারের
সুপারিশ প্রয়োজন হবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশ নিতে হবে। এরপর তা স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে।
নতুন উপজেলার নাম, সদর দপ্তরের সম্ভাব্য স্থান কিংবা কোন ছয়টি ইউনিয়ন এতে অন্তর্ভুক্ত হবে—দেওয়া তথ্যে তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব বিষয় জেলা প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
চিঠির অনুলিপি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য, চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক ও উপপরিচালক এবং সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ সংবাদ পেতে এক্সে দৈনিক বাংলাভিউয়ের সঙ্গে যুক্ত হোন।
প্রস্তাব তৈরির সময় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নথি ও পরিসংখ্যান একত্র করতে হবে। বিভাগীয় পর্যায়ের মতামতও এতে যুক্ত হবে। এরপর কেন্দ্রীয়ভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য কি না, তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে।
চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় আসনের আওতায় চন্দনাইশের পাশাপাশি সাতকানিয়ার একটি অংশ রয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট ছয় ইউনিয়নের জন্য আলাদা উপজেলা প্রশাসনের কাঠামো তৈরি হবে।
তবে তার আগে জেলা প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব, বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশ এবং সরকারের পরবর্তী অনুমোদন প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বর্তমান উদ্যোগটি নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।