
ময়মনসিংহ মেডিকেল অগ্নিকাণ্ডের পর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর যে খবর ছড়িয়ে পড়ে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন। বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেছেন, হাসপাতালের রেকর্ড, স্বজনদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য মিলিয়ে তারা এমন কোনো মৃত্যুর প্রমাণ পাননি।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত মৃত্যুর তালিকায় থাকা একজনকে জীবিত পাওয়া গেছে। তালিকার আরও দুজন স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন বলে তাদের পরিবার নিশ্চিত করেছে। অন্যদের মৃত্যুর কারণ চিকিৎসকেরা তখনও স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি। —সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধোঁয়া দ্রুত কয়েকটি তলায় ছড়িয়ে পড়লে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। নিচে নামার সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হন। তবে প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে অচল একটি লিফটে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়ে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
মৃত্যুর তথ্য যাচাইয়ে হাসপাতালের রেজিস্টার, মর্গের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, আতঙ্ক ও হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হলেও পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য সঠিক নয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রশাসন তালিকা ধরে যাচাই শুরু করে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বজন ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মিলিয়ে আগের দাবির সঙ্গে অসঙ্গতি শনাক্ত করে।
আগুনের ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি ব্যবস্থাপনা ও রোগী সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে বিভ্রান্তিকর মৃত্যুর তথ্য কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল, সেটিও প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন মূল গুরুত্ব থাকবে আগুনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, আহতদের চিকিৎসা এবং মৃত্যুর তথ্যের চূড়ান্ত যাচাইয়ে। প্রশাসন জানিয়েছে, হাসপাতালের নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের তথ্য মিলিয়ে যাচাই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
হাম ও ডেঙ্গুর জোড়া চাপ, জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে সংকট
ডেঙ্গুতে এক দিনে ভর্তি ৯৮৮, দুজনের মৃত্যু
দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খবরের দ্রুত আপডেট পেতে এক্সে দৈনিক বাংলাভিউয়ের সঙ্গে যুক্ত হোন।