হাম-ডেঙ্গুর দীর্ঘস্থায়ী প্রাদুর্ভাব সামলাতে ব্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে ডেঙ্গু। কয়েক মাসে হাম ও এর উপসর্গে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যেই ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে সংক্রামক রোগ ও মশাবাহিত রোগের যুগপৎ বিস্তার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মোট ১ হাজার ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম ছিল ১০০ জনের। বাকি ৯০৯ জন মারা গেছেন হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে সন্দেহজনক রোগী ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৫ জনে পৌঁছেছে। —স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন।
হামের চাপ না কমতেই ডেঙ্গুতে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৮ হাজার ৪৩০ জনে উঠেছে। মৃত্যু হয়েছে ১৩৯ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডেও ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মোট ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব দেখানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা উল্লেখযোগ্য অংশ।
ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর বিস্তারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। খুলনা বিভাগে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের বড় অংশ ঢাকার বাইরের হাসপাতালে রয়েছে। এতে জেলা পর্যায়ের চিকিৎসা সক্ষমতা, দ্রুত শনাক্তকরণ ও রেফারেল ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
“টিকা প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে মৃত্যু কমাতে রোগীকে শুরুতেই শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসায় আনতে হবে”—ডা. মুশতাক হোসেন।
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মৃত্যু কমাতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে হবে। রোগীকে শুরুতেই শনাক্ত করে চিকিৎসায় আনতে পারলে গুরুতর জটিলতা ও আইসিইউয়ের চাপ কমানো সম্ভব।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিংয়ের ওপর নির্ভর না করে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেছেন, ঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানিই বড় ঝুঁকি। নিয়মিত কীটতাত্ত্বিক জরিপ, কার্যকর লার্ভা নিয়ন্ত্রণ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত ভেক্টর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন আবার শুরু করার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে হাম-ডেঙ্গুর প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি রোগ একসঙ্গে সামলাতে প্রতিরোধের পাশাপাশি হাসপাতাল প্রস্তুতি ও স্থানীয় পর্যায়ের দ্রুত সাড়া এখন সবচেয়ে জরুরি।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
তিন বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমণ, সেরোটাইপে উদ্বেগ
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হাজার ছুঁইছুঁই
স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যের সর্বশেষ আপডেট পেতে এক্সে দৈনিক বাংলাভিউয়ের সঙ্গে যুক্ত হোন।