মাওলানা সাদ কান্ধলভীর সবাইকে প্রকাশ্যে তওবা করে নিজের বক্তব্য সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় বিষয়ে সাদের কিছু বক্তব্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলেমদের আপত্তি রয়েছে। তিনি বলেছেন, তওবা ও সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সাদকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে আয়োজিত সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতার বিচার দাবিতে আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে হেফাজতের আমির সভাপতিত্ব করেন। তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। —জাতীয় থেকে আরও পড়ুন।
মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, দারুল উলুম দেওবন্দের মুরব্বিসহ বিভিন্ন আলেম সাদ কান্ধলভীর বক্তব্যে সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই পরামর্শ গ্রহণ করে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি সাদ। এ কারণে তিনি তওবা, শুরায়ি নেজাম মেনে চলা এবং দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু করার আহ্বান জানান।
“খালিস তওবা করে শুরায়ি নেজাম মেনে দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করা পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া যাবে না”—শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
হেফাজত আমির আরও বলেন, বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজাম অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া উচিত। কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রমও আলেমদের তত্ত্বাবধানে রাখার পক্ষে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে সাদপন্থীদের টঙ্গী ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানান।
সম্মেলনের আয়োজকরা ২০১৮ ও ২০২৪ সালের টঙ্গী ইজতেমা মাঠের সহিংসতায় নিহতদের দ্রুত বিচার দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় সাদপন্থীদের অনুসারীদের একটি অংশ জড়িত ছিল। তবে এই অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। তাই বিষয়গুলোকে এখনো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঘোষণাপত্রে সাতটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ঘটনার দ্রুত বিচার, অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনা এবং ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের কার্যক্রম সীমিত রাখা। আলেমদের বিষয়ে বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পাঠানোর অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবিও জানানো হয়।
হেফাজত আমির সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে এনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচারের দাবিও তোলেন। একই সঙ্গে তাবলিগের বিরোধ নিরসনে আলেমদের সম্পৃক্ত করে স্থায়ী সমাধানের পথ বের করার আহ্বান জানান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, তাবলিগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে ধর্মীয় কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে। তাই তারা সরকারের কাছে দ্রুত, স্পষ্ট ও কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন।
কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে ৯ দফা ঘোষণা: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বশেষ জাতীয় সংবাদ পেতে এক্সে দৈনিক বাংলাভিউয়ের সঙ্গে যুক্ত হোন।