গুম প্রতিরোধ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে, এতে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
রোববার সংসদে পৃথক কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এটি বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন।
বিলে কম সময়ের গুমে অন্তত তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে পরিস্থিতিভেদে।
ভুক্তভোগীর মৃত্যু বা পাঁচ বছরের বেশি নিখোঁজ থাকলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
এদিকে আদালত নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি পরোয়ানা দিতে পারবে এবং ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে নতুন বিলে।
সাক্ষী, অভিযোগকারী, হুইসেলব্লোয়ার ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিধানের পাশাপাশি অনুপস্থিত আসামির বিচার চালানোর ব্যবস্থাও এই বিলে স্পষ্টভাবে রাখা হয়েছে।
বিল অনুযায়ী, তদন্ত ও বিচার উভয় প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা নির্দিষ্টভাবে রাখা হয়েছে নতুন কাঠামোয়।
তবে স্বাধীন তদন্ত সংস্থা নেই; অভিযুক্ত বাহিনী নিজ অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে না, অন্য বাহিনী বা যৌথ দল দায়িত্ব পাবে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী ও পরিবার তদন্তের অগ্রগতি জানতে, সত্য অনুসন্ধান করতে এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান জানার পূর্ণ অধিকার পাবেন বিলে।
রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকবে, আর দণ্ডিতের সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে প্রথমে।
আর গুম প্রতিরোধ বিল নিয়ে পরবর্তী সরকারি ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য জানতে দৈনিক বাংলাভিউ ফলো করুন নিয়মিত যাচাইকৃত আপডেটের জন্য।
বিরোধীদের ওয়াকআউট, মানবাধিকার কমিশন বিলও পাস
একই অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধনী বিলও পৃথক কণ্ঠভোটে সংসদে পাস হয়েছে রোববার রাতে।
মানবাধিকার কমিশনের কাঠামো ও সংসদীয় সিদ্ধান্তের আরও প্রেক্ষাপট জানতে দৈনিক বাংলাভিউতে আরও পড়ুন, যেখানে যাচাইকৃত সংবাদ নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায় থেকে অন্তত একজন কমিশনার রাখার বিধান নতুন মানবাধিকার কমিশন কাঠামোয় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে বিরোধী সংসদ সদস্যরা দুই মানবাধিকারসংক্রান্ত বিলের বিরোধিতা করে ভোটের আগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
দ্রুত সংসদীয় আপডেট পেতে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে অনুসরণ করুন, কারণ বিলগুলোর বাস্তবায়ন ও পরবর্তী সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আরও স্পষ্ট হতে পারে।