তিন বছরের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৪০ হাজার ৪৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১১১ জনের। গত দুই বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেশি।
২০২৫ সালের একই সময়ে ৩৩ হাজার ৩০৭ এবং ২০২৪ সালে ১৪ হাজার ৩২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। জুলাইয়ে সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ২০৬ জনে পৌঁছায়। আগস্টে তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫৩৬ জনে। সেপ্টেম্বরের প্রথম চার দিনেও রোগী বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এবার ডেঙ্গু ভাইরাসের ডেন–৩ সেরোটাইপ সার্বিকভাবে প্রধান হয়ে উঠেছে। তবে ডেন–২-ও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ছড়াচ্ছে। আইইডিসিআরের সীমিত নমুনা জরিপে শহর ও গ্রামভেদে দুই সেরোটাইপের ভিন্ন উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, দুই সেরোটাইপের মিশ্র উপস্থিতি দ্রুত সংক্রমণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটিকে নিশ্চিত কারণ বলতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
চলতি বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ১০ হাজার ৪৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মোট আক্রান্তের বড় অংশই এখন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকার। খুলনা বিভাগে ৬ হাজার ৩২৪ জন ভর্তি হয়েছেন এবং ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় হাসপাতালের শয্যা সংকটও রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। অনেক পরিবার সরকারি হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে বেশি ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব উদ্বেগজনক। ঢাকা উত্তর সিটির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ২০ থেকে ৪০ দশমিক ৩৩ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু রোগীর চিকিৎসা বাড়িয়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত মশা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। নতুন কোনো সেরোটাইপ যুক্ত হলে বছরের শেষ দিকে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা।
স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যের আরও খবর পড়ুন দৈনিক বাংলাভিউয়ে। সর্বশেষ আপডেট পাওয়া যাবে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে।