সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন এর দাবি জানিয়েছে মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ), ঢাকা। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরে।
লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ছাত্রদলের সায়রা চন্দ্র চাকমা ও বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের গোলাম মোস্তফা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিপির ইনজামুল হক ও ছাত্রদলের নাসরিন রহমান পপি।
ডিজিটাল অধিকার নিয়ে আরও খবর জানতে আরও জানুন বিভাগ দেখতে পারেন।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা শুধু সাইবার অপরাধ নয়।
এটি মানবাধিকার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সমান অংশগ্রহণের পথেও বড় বাধা। তাই TFGBV-কে স্বতন্ত্র ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন ও সুলতানা জেসমিন জুঁই বক্তব্য দেন।
তারা সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন, ২০২৬-এ TFGBV অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
ম্যাফের মতে, বর্তমান আইনে TFGBV ও ‘সম্মতি’র সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। এছাড়া ডিপফেক, সেক্সটরশন, সাইবারফ্ল্যাশিং, সাইবারস্টকিং, ডক্সিং এবং দলবদ্ধ অনলাইন হয়রানি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট বিধানও অপর্যাপ্ত।
ফলে নতুন ধরনের ডিজিটাল সহিংসতায় ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা জটিল হয়ে পড়ে।
প্রথম সুপারিশে TFGBV ও ‘সম্মতি’র স্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, নতুন ডিজিটাল সহিংসতা মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট বিধান সংযোজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা ও ভুক্তভোগীর পরিচয়ের গোপনীয়তা নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।
আরও বলা হয়, ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত সরানো এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের ব্যবস্থা দরকার। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
ক্ষতিপূরণসহ দ্রুত ও কার্যকর আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থাও চেয়েছে ফোরাম।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে জনসচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
ম্যাফের সাইদুর রহমান মিন্টু, শাহীনূর নারগিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও বক্তব্য দেন।
আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করতে পারেন।
মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্ল্যাটফর্ম।
অনুষ্ঠানটি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের B-SPACE প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পটি যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
<p>57457</p>
45785