বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

ধামরাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিভ্রাট: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৭ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ধামরাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিভ্রাট: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) একযোগে দ্বিতীয় টার্মিনাল মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার প্রথম দিনেই ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্নপত্র নিয়ে নানা ধরনের অসংগতি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় প্রশ্নপত্র কম সরবরাহ করা হয়েছে, আবার কোথাও এক শ্রেণির প্রশ্নের প্যাকেটের ভেতর পাওয়া গেছে অন্য শ্রেণির প্রশ্ন। এছাড়া অনেক প্যাকেটে প্রশ্নপত্রের অংশবিশেষ ছাপা না থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে। এই অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্রের এই ঘাটতি ও ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন ছয়টি কম ছিল। অন্য কয়েকটি বিদ্যালয়ে একই শ্রেণির প্রশ্ন যথাক্রমে পাঁচটি, সাতটি ও ১৭টি পর্যন্ত কম পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভাড়ারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণির প্রশ্নের প্যাকেটে দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির প্যাকেটের ভেতর প্রথম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন পাওয়া গেছে। ওই বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণিতে ২২ জন এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪২ জন শিক্ষার্থী ছিল, যেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্নপত্রের ঘাটতি ছিল ২০টি।

চন্দ্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। সেখানে চতুর্থ শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের প্যাকেট খোলা হলে ভেতরে বাংলা বিষয়ের প্রশ্ন পাওয়া যায় এবং সেখানেও প্রশ্নপত্রের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল। প্রশ্নপত্রের এই ঘাটতি মেটাতে অনেক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ফটোকপি করার উদ্যোগ নিতে হয়। এই প্রক্রিয়ার সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে আলাদা কক্ষে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ে ১৭ জন শিক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্রের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে, যা কোমলমতি শিশুদের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, শুধু প্রশ্নের সংখ্যা কম বা প্যাকেট অদলবদল হওয়া নয়, অনেক প্রশ্নপত্র পুরোপুরি ছাপা হয়নি। কোনো কোনো পৃষ্ঠার একটি অংশ ছাপা থাকলেও বাকি অংশ সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র নিয়ে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দ্রুত ফটোকপি করে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হয়, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু করা নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগে গোপনীয়তার খাতিরে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা হয় না। কিন্তু পরীক্ষার সময় প্যাকেট খুলতে গিয়েই এই ভয়াবহ ভুলগুলো ধরা পড়ে। এক প্রধান শিক্ষক জানান, দ্বিতীয় শ্রেণির তিনটি ইংরেজি প্রশ্ন কম ছিল এবং প্যাকেটের ভেতরে ভুল প্রশ্ন ছিল। অন্য এক শিক্ষক জানান, প্রথম শ্রেণির প্যাকেটের ভেতরে দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির প্যাকেটের ভেতর প্রথম শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নের সংখ্যাও একটি কম ছিল।

অন্য এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তার বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্রের ঘাটতি না থাকলেও আশপাশের চার-পাঁচটি বিদ্যালয়ে একই ধরনের সমস্যা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলো নিজেরাই প্রশ্ন তৈরি করতে পারে এবং প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তা জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু ধামরাইয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র তৈরি ও সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। প্রথম টার্মিনাল পরীক্ষার সময়ও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

প্রশ্নপত্র তৈরির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টিও এখন বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্ন তৈরির জন্য জনপ্রতি ১০ টাকা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ১২ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। ধামরাইয়ের ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এই হিসাবে প্রশ্নপত্র তৈরির নামে কয়েক লাখ টাকা তোলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস কেন এই দায়িত্ব নিল এবং এই বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাব কোথায়?

পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রশ্নপত্র না পাওয়া বা ভুল প্রশ্ন পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেক শিক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্রের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হওয়ায় পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে শিক্ষক ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিভাবকরা বলছেন, শিশুদের মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন ভুল কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশ্নপত্র কম থাকা, ভুল প্যাকেটে অন্য শ্রেণির প্রশ্ন থাকা কিংবা অসম্পূর্ণ প্রশ্ন সরবরাহের কারণে শিশুদেরই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তারা ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ধামরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোবাখখারুল ইসলাম মিজান জানান, তিনি অভিযোগগুলো শুনেছেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। তবে প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব ও অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার কোনো সদুত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

পরিশেষে, ধামরাইয়ের এই ঘটনাটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক দুর্বলতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা না করে যেভাবে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে, তা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। আগামীতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান দাবি।

কী বলছে তথ্য?

পৃথিবীতে আগের চেয়ে বেশি ভূমিকম্প হচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৯ এম
পৃথিবীতে আগের চেয়ে বেশি ভূমিকম্প হচ্ছে?

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় জনমনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—পৃথিবীতে কি আগের চেয়ে বেশি ভূমিকম্প হচ্ছে? গত এক মাসে ইন্দোনেশিয়া, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোতে ৭ বা তার বেশি মাত্রার তিনটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর আগে জুন মাসে ভেনেজুয়েলাতেও কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে গত এক দশকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সংখ্যা কিছুটা ওঠানামা করলেও তা এখনো স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বছরে প্রায় ২০ হাজার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়, যার অর্থ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫টি ভূমিকম্প ঘটে। তবে এর বেশির ভাগই এতটাই দুর্বল যে মানুষ তা অনুভব করতে পারে না। সাধারণত ৬ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ১৩৩টি ৬ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে এ ধরনের ভূমিকম্পের সংখ্যা ছিল ৯৯টি, আর ২০২১ সালে তা সর্বোচ্চ ১৫৭টিতে পৌঁছেছিল।

চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৬ বা তার বেশি মাত্রার ৯১টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ১১টি। যদিও এই সংখ্যা গত এক দশকের তুলনায় সামান্য বেশি গতিতে এগোচ্ছে বলে মনে হতে পারে, তবে বিজ্ঞানীদের মতে এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রবণতা নয়। স্বস্তির বিষয় হলো, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৮ বা ৯ মাত্রার কোনো মহাভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ভূমিকম্প কতটা প্রাণঘাতী হবে, তা শুধু এর মাত্রার ওপর নির্ভর করে না। ভূমিকম্পের গভীরতা, জনবসতির কত কাছে আঘাত হেনেছে, ভবনগুলোর নির্মাণমান এবং মাটির গঠন—এসব বিষয়ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রায় বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় তুলনামূলক কম মাত্রার ভূমিকম্পও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটাতে পারে।

ভূমিকম্পের কোনো নির্দিষ্ট মৌসুম নেই এবং এখন পর্যন্ত বড় ভূমিকম্পের সময় নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার ঝুঁকি নির্ধারণ, শক্তিশালী ভবন নির্মাণ এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা মানুষের প্রাণ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূমিকম্প ঘটে প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে, যার মধ্যে জাপান, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া জাভা থেকে হিমালয় হয়ে তুরস্ক ও ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত আলপাইন-হিমালয় অঞ্চলও শক্তিশালী ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো ভয়ের কারণ হলেও দীর্ঘমেয়াদি তথ্য এখনো কোনো অস্বাভাবিক প্রবণতার প্রমাণ দিচ্ছে না; বরং শক্তিশালী ভূমিকম্পের সংখ্যা স্বাভাবিক ওঠানামার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বিইউবিটিতে রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি ডিরেক্টর পদে নিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৮ এম
বিইউবিটিতে রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি ডিরেক্টর পদে নিয়োগ

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি ডিরেক্টর (জনসংযোগ) পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

রেজিস্ট্রার পদের বিবরণ

  • পদসংখ্যা: ১টি।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ভালো একাডেমিক রেকর্ড থাকতে হবে।
  • অভিজ্ঞতা: সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক। একই ধরনের পদে কাজের অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিকল্প হিসেবে সরকারি, আধা সরকারি বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কাজে কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করা যাবে।
  • বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৬০ বছর।

ডেপুটি ডিরেক্টর (জনসংযোগ) পদের বিবরণ

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পর্যায়েই কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি/বিভাগ অথবা ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।
  • অভিজ্ঞতা: কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী পরিচালক বা সহকারী রেজিস্ট্রার (জনসংযোগ) হিসেবে অথবা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সমপর্যায়ের পদে কমপক্ষে ৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪০ বছর।

আবেদন প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীদের কভার লেটার, বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), পাসপোর্ট সাইজের ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি ও অভিজ্ঞতার সনদসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের হার্ড কপি সরাসরি জমা দিতে হবে। নিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বা নোটিশ বোর্ড থেকে যাচাই করে নেওয়া যেতে পারে।

চাকরির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • চাকরির তথ্যে যোগ হল: পদসংখ্যা: ১।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মর্যাদাপূর্ণ ফেরাতে বৈশ্বিক উদ্যোগ চান ঢাবি উপাচার্য

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মর্যাদাপূর্ণ ফেরাতে বৈশ্বিক উদ্যোগ চান ঢাবি উপাচার্য

সংকটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একমাত্র টেকসই সমাধান বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ যৌথভাবে আয়োজনটি করে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আন্তর্জাতিক উদ্যোগের তাগিদ

উপাচার্য বলেন, দীর্ঘদিন বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বহুমাত্রিক চাপের মুখে রয়েছে। ফলে দেশের অর্থনীতি, সমাজ এবং পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে।

তার মতে, শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়।

তাই বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি জাতিসংঘ ও আসিয়ানের মতো বহুপাক্ষিক ফোরামকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে মিয়ানমারে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সংকটের আরও খবর জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও জানুন বিভাগ দেখতে পারেন।

এছাড়া সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নিরাপত্তা ও কূটনীতিতেও বাড়ছে চাপ

সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সংকটটি এখন জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও যুক্ত।

তার ভাষ্য, বাংলাদেশ নয় বছর ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে উদারতার পরিচয় দিয়েছে।

তবে এই দায়িত্ব অনির্দিষ্টকাল বহন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই সংকট সৃষ্টি করেনি এবং একা এর সমাধানও করতে পারবে না।

তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক চাপ ও সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি। সেমিনারের প্রথম প্যানেলে মানবিকতা ও জাতীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়।

সেখানে দেশি-বিদেশি গবেষক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

দ্বিতীয় প্যানেলে প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গকে আবার আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় কূটনীতিক, সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মিয়ানমারবিষয়ক বিশ্লেষকেরাও যুক্ত হন। অন্যদিকে উপাচার্য আবারও বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ছাড়া স্থায়ী সমাধান নেই.

সর্বশেষ আপডেট আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করতে পারেন.