মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে একটি স্বর্ণের খনি ধসে অন্তত ৩০ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের আব্বা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এলাকাটি নানা-মামবেরে প্রিফেকচারের অন্তর্গত। খনির ভেতরে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকা আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কাজে যোগ দেন।
আরও পড়ুন:
কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন ৯ বাংলাদেশি
বোয়ালমারীতে সড়ক দুর্ঘটনার তিনদিন পর শিক্ষার্থীর সন্ধান মিলল
অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার
তবে খনির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের আশাও কমছে।
উপ-মেয়র সুলেমান বি উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া আহত কয়েকজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সুলেমান বি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে তিনি জরুরি সহায়তা চেয়েছেন।
তার মতে, অনেক শ্রমিক নিজে বেরিয়ে আসতে পারছেন না। তাই দ্রুত উদ্ধার সরঞ্জাম ও জনবল প্রয়োজন।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে উদ্ধারকাজের কঠিন চিত্র দেখা গেছে। কাদামাখা শ্রমিকেরা খনির গর্তে নেমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।
অনেকে সেখান থেকে মরদেহ বের করছেন। আবার আশপাশে থাকা মানুষদের সাহায্যের জন্য আহ্বান জানাতে দেখা গেছে।
বেঁচে যাওয়া শ্রমিক ফ্লোরিয়ান গাগুয়েন্দে দুর্ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ধসের পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। এখনো কয়েকজন শ্রমিক খনির ভেতরে আটকা থাকতে পারেন।
সরকারের মুখপাত্র এভারিস্তে নগামানা দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দিতেও কাজ চলছে।
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ছোট আকারের অনেক স্বর্ণের খনি রয়েছে। এসব খনিতে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রায়ই সীমিত থাকে।
এ কারণে শ্রমিকদের বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। দেশটিতে খনি ধসের ঘটনাও প্রায়ই ঘটে।
আব্বা এলাকায় উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
<p>57457</p>
45785