বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ কৃষিপরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৫০ লাখ মানুষ, চলতি বছরের জুন থেকে নভেম্বরের মধ্যে জরুরি কৃষি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর নতুন মূল্যায়নে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগের মূল্যায়নের তুলনায় সহায়তাপ্রার্থী পরিবারের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ বেড়েছে; সবচেয়ে বেশি চাপে আছেন স্বল্প জমির ক্ষুদ্র উৎপাদকরা।
FAO-এর ‘ডেটা ইন ইমার্জেন্সিজ মনিটরিং’ ব্যবস্থার ১৪তম ধাপের জরিপে দেশের ৬৪ জেলার ৬ হাজার ১৪৩টি পরিবারের তথ্য নেওয়া হয়। এপ্রিল ও মে মাসে ফোনে করা এ জরিপে অর্থনৈতিক আঘাত, খাদ্য অনিরাপত্তা এবং কৃষি সহায়তার প্রয়োজন একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রয়োজনের অনুপাত সবচেয়ে বেশি সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে। মোট পরিবারের হিসাবে চট্টগ্রাম ও রংপুর এগিয়ে। নদী অববাহিকা, হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকায় সংকট বেশি তীব্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহায়তা প্রয়োজন এমন পরিবারের ৮৪ শতাংশ খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক ধাক্কায় পড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পেয়েছে ১৬ শতাংশ, যা আগের ধাপের চেয়ে ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
প্রায় ৬৭ শতাংশ পরিবার বাকিতে খাবার কিনেছে, ৬৬ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় কমিয়েছে এবং ৩০ শতাংশ বীজ-সারসহ কৃষি উপকরণে খরচ কাটছাঁট করেছে। ফসল বিক্রিতে সমস্যার কথা বলা পরিবারের হার ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০ শতাংশ হয়েছে; প্রধান কারণ কম বিক্রয়মূল্য।
নগদ সহায়তার চাহিদাও ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের ঘোষিত কৃষক কার্ড ও খাল খনন পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার চিহ্নিতকরণ এবং পানি ব্যবস্থাপনার আলোচনায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
FAO-এর জরুরি কৃষি সহায়তা মূল্যায়ন বলছে, আমন মৌসুম সামনে রেখে বীজ-সারসহ উপকরণ, নগদ অর্থ, পশুস্বাস্থ্য সেবা এবং পানি ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে নিশ্চিত করা দরকার।
সহায়তাপ্রার্থী পরিবারের ৭২ শতাংশ কৃষি উপকরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে; পশুখাদ্য প্রয়োজন ৫১ শতাংশের এবং পশুচিকিৎসা সেবা ৩৩ শতাংশের।
সংস্থাটি নিষ্কাশন, সংরক্ষণ ও বাজারে প্রবেশে বিনিয়োগেরও পরামর্শ দিয়েছে, যাতে উৎপাদন ও আয় আরও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের WhatsApp চ্যানেল অনুসরণ করুন।
দ্রুত আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের X অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করুন।