ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিছু অভিনয় সময় পেরিয়েও আলাদা আলো ছড়ায়। আনোয়ার হোসেনের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ তারই অন্যতম উদাহরণ। ঐতিহাসিক চরিত্রটির বেদনা, আত্মমর্যাদা ও পরাজয়ের অনুভূতি তিনি এমনভাবে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন, যা দর্শকের স্মৃতিতে আজও জীবন্ত। সেই অভিনয়ই তাকে এনে দেয় ‘মুকুটহীন নবাব’ পরিচয়।
আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতার প্রয়াণ দিবস। ২০১৩ সালের এই দিনে ৮২ বছর বয়সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বিনোদন থেকে আরও পড়ুন...
খলচরিত্র দিয়ে চলচ্চিত্রজীবন শুরু করলেও পরে নায়ক, রাজা, রাজনৈতিক চরিত্র এবং সাধারণ মানুষের ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
খান আতাউর রহমান নির্মিত ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’য় নাম ভূমিকায় অভিনয় আনোয়ার হোসেনকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যায়। বিশেষ করে সিরাজের পতন ও মৃত্যুর দৃশ্যে তাঁর অভিনয় দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’র পর দর্শকের কাছে আনোয়ার হোসেন হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘মুকুটহীন নবাব’।
আনোয়ার হোসেন ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। পরে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জন করেন।
বাংলা চলচ্চিত্রে সামগ্রিক অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।
জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় রাজনৈতিক প্রতীক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব—দুই দিকেই গভীরতা তৈরি করেছিল। ‘শহীদ তিতুমীর’, ‘ঈশা খাঁ’, ‘মানুষের মন’, ‘ভানু মতি’, ‘ভাত দে’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন।
‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রে তার ঠোঁট মেলানো ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানটিও দর্শকের স্মৃতিতে আলাদা জায়গা করে নেয়। সর্বশেষ আপডেট পেতে এক্সে দৈনিক বাংলাভিউয়ের সঙ্গে যুক্ত হোন।
আনোয়ার হোসেনের অভিনয়জীবন শুধু জনপ্রিয়তার ইতিহাস নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রভাষার বিকাশেরও অংশ। প্রয়াণের ১৩ বছর পরও তার চরিত্র, সংলাপ ও পর্দার উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে বাংলা চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার হয়ে আছে।
সালমান শাহ্র ৩০তম প্রয়াণ দিবসে আজও অধরা মৃত্যুর রহস্য
যাত্রাশিল্পে অষ্টাদশ রস: ‘বঙ্গরসায়ন রসতত্ত্ব’ প্রস্তাব এন এ পলাশের