ওয়াজ মাহফিলের বিরোধে নবীনগরে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ, আতঙ্ক চরলাপাংয়ে

নবীনগরে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ ঘিরে চরলাপাং গ্রামে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রোববার রাতে স্থানীয় মাহফিলে দুই গ্রামের যুবকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এরপর পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, চরলাপাং ও মির্জাচর গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।

পরে মির্জাচরের একটি দল নৌকাযোগে চরলাপাং গ্রামে আসে বলে অভিযোগ। বিরোধের রেশ রাতেই আবার উত্তেজনায় রূপ নেয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

নবীনগরে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ ঘিরে যা ঘটেছে

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফিরে আসা দলটির কয়েকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র বহন করছিল। এরপর মেঘনা নদীতীরবর্তী কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হোসেন মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান ও নছর মিয়ার পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া খায়ের মিয়া, আবুল কাশেম ও উজ্জল মিয়ার পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের দাবি, লুট হওয়া সম্পদের মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা।

স্থানীয় ঘটনার প্রতিবেদনের জন্য আরও জানুন বিভাগ দেখুন।

লুটপাটের অভিযোগ ও পুলিশের অবস্থান

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তদের পরিচয় জানা থাকলেও অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ তারা পরবর্তী হামলার আশঙ্কা করছেন বলে দাবি করেছেন।

তাই ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ এবং নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মেঘনা নদীতীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

নবীনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোরশেদ আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, চরলাপাং গ্রামের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত।

তবে থানায় এখনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নবীনগরে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য এখনো অভিযোগ পর্যায়েই রয়েছে। কারণ পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ না থাকায় তদন্ত শুরুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাই ঘটনার পূর্ণ চিত্র জানতে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে গ্রামবাসীরা দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের প্রত্যাশা করছেন।

নবীনগরে হামলা-লুটপাটের অভিযোগের পর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে স্থানীয়রা।

আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *