রামপুরা হত্যা মামলা অভিযুক্ত বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম আইনজীবীর ফি দিতে আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুনানির সময় তিনি এই আবেদন করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি অভিযুক্ত।
শুনানির একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছিল।
এ সময় রেদোয়ানুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম একজন সাক্ষীকে জেরা করছিলেন।
পরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেদোয়ানুল ইসলাম জানান, ঘন ঘন শুনানির তারিখ নির্ধারণের কারণে আইনজীবীর ফি পরিশোধে তিনি সমস্যায় পড়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে তার বেতন খুবই সীমিত। এই অর্থ দিয়ে সংসার চালানো এবং আইনি খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আদালত ও আইন সংক্রান্ত আরও খবর পড়তে দৈনিক বাংলাভিউ জাতীয় বিভাগের প্রতিবেদন দেখুন।
রেদোয়ানুল ইসলাম জানান, তার সঞ্চয়ও প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
এ কারণে শুনানির তারিখের মধ্যে কিছুটা দীর্ঘ বিরতি দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
এ সময় বিচারক তার আইনজীবীর কাছে ফি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চান।
আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম জানান, আসামির কাছ থেকে যৌক্তিক ফিই নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আসামির উদ্দেশ্য তারিখ পেছানো নয়।
তিনি জানান, দ্রুত শুনানি হলে মামলার বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী বলেন, রেদোয়ানুলের বক্তব্য তার হৃদয় স্পর্শ করেছে।
ট্রাইব্যুনাল আগামী ২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।
ওই দিন অন্য কোনো মামলার শুনানি না রাখতে প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রামপুরায় ২৮ জন নিহতের এই মামলায় রেদোয়ানুল ইসলাম ছাড়াও বিজিবির সাবেক মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম সেনা হেফাজতে রয়েছেন।
এছাড়া মামলার অপর দুই আসামি পুলিশের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান পলাতক রয়েছেন।
মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে দৈনিক বাংলাভিউ-এর এক্স আপডেট অনুসরণ করতে পারেন।