বাংলাদেশিদের মরদেহ ফেরানো দ্রুত সম্পন্ন করতে কলকাতার বাংলাদেশ মিশন কাজ শুরু করেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বুধবার এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগোনোর কথা বলেছেন।
নিহতদের পরিবার ব্যয় বহনে অসুবিধায় পড়লে সরকার বিষয়টি দেখবে। প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিচয় যাচাই এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দেশে পাঠানো হবে। প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালও পরিদর্শন করেছেন।
বাংলাদেশে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। প্রত্যেক পরিবারকে সর্বশেষ তথ্য জানানো হচ্ছে।
মরদেহ হস্তান্তরের আগে স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তবে ফেরানোর নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত এবং তার স্ত্রী আফসানা শারমীন। তাদের ছোট ছেলে স্বর্ণাশিস দত্তও মারা গেছে।
একই ঘটনায় দেবাশীষের শ্বশুর মোহাম্মদ আকরাম আলীর মৃত্যু হয়েছে। চারজন চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন।
নিহত অপর বাংলাদেশি আহম্মেদ বাবু সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি ব্যবসার কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ পরিচয়গুলো নিশ্চিত করার পর বাংলাদেশ মিশন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। মরদেহ শনাক্তের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে আগুন লাগে। ভবনটি ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে অবস্থিত।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হোটেলের অতিথিরা আটকা পড়েন। ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে ওঠে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।
অন্য নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কলকাতার কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা পুলিশ ঘটনায় মামলা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজছে।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উপ-হাইকমিশন আহতদের অবস্থারও খোঁজ রাখছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কাজ চলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মরদেহ হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশে আনার ব্যবস্থা চূড়ান্ত হবে। ব্যয় বহনে সমস্যা হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা বিবেচনা করবে।
বাংলাদেশিদের মরদেহ ফেরানো এখন সরকারের অগ্রাধিকার। পরিচয় যাচাই শেষ করে দ্রুত স্বজনদের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাভিউয়ের সর্বশেষ জাতীয় সংবাদ।
ভিডিও সংবাদ: বাংলাভিউয়ের ভিডিও সংবাদ দেখুন।
<p>57457</p>
45785