শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ষড়যন্ত্রের বিচার চাইলেন এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ষড়যন্ত্রের বিচার চাইলেন এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল

লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রের বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তাকে অযোগ্য মনে করে পদত্যাগের নির্দেশ দিলে এক মুহূর্তও বিলম্ব করবেন না বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাতে সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি কর্মী মূল্যায়ন সভার আয়োজন করা হয়। আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিযোগ নিয়ে যা বললেন রোকন উদ্দিন বাবুল

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি বাবুল। তিনি বলেন, সভার মঞ্চে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও সেখানে অংশ নেন।

যারা নিজেদের তৃণমূল দাবি করে তাকে অযোগ্য আখ্যা দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সময়ও একটি মহল তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের চক্রান্ত ও বিষোদগার করেছিল।

তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও ওই মহলটি থেমে নেই। বরং তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ড শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ করেন এমপি বাবুল।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, কোনো অপশক্তি বা চক্রান্তকারী শহীদ জিয়ার পরিবারের আদর্শ ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারবে না।

সভা শুরুর পর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে ওই সময়ে বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়।

এদিকে তৃণমূলের অনেক নেতা দাবি করেন, নির্বাচনের আগে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম দলীয় মনোনয়ন পাননি। এরপর থেকে স্থানীয় বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অসহযোগিতার মধ্যেও রোকন উদ্দিন বাবুল বিপুল ভোটে জয়ী হন বলে তারা জানান।

চক্রান্তকারীদের বয়কটের দাবি

তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বাবুলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে একটি পরাজিত মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। ওই মহল তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর পাশাপাশি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও তারা দাবি করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট চক্রান্তকারীদের দল থেকে বয়কটের দাবি জানান নেতারা।

সভায় আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা অভিযোগ

এর আগে সোমবার রোকন উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন আদিতমারী উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতারা। সেখানে তারা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

আদিতমারী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক। তার অভিযোগ, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বাবুল দলীয় মূলধারা ও প্রবীণ নেতাদের তোয়াক্কা করছেন না। বরং তিনি নিজের স্বার্থ গুছিয়ে চলছেন বলে দাবি করেন সালেকুজ্জামান।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তোলা হয়। তাদের দাবি, বাবুল নিজের ইচ্ছামতো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এর ফলে বিএনপির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের অপেক্ষা

পাল্টাপাল্টি এসব অভিযোগের কারণে লালমনিরহাট বিএনপির রাজনীতিতে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে এমপি বাবুল তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে দলের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রোকন উদ্দিন বাবুল তার বক্তব্যে বারবার দলীয় শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সর্বশেষ সংবাদ

সৌদির আগুনে নিহত আত্রাইয়ের সাত প্রবাসীর জানাজা সম্পন্ন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম
সৌদির আগুনে নিহত আত্রাইয়ের সাত প্রবাসীর জানাজা সম্পন্ন

সৌদির রিয়াদে সোফা কারখানার আগুনে নিহত আত্রাইয়ের সাত প্রবাসীর জানাজা শুক্রবার সকালে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে আত্রাইয়ের মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে একসঙ্গে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। তাদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। এরপর রাত দেড়টার দিকে বিশেষ ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে নেওয়া হয়।

আত্রাইয়ের সাত প্রবাসীর জানাজায় শোকের আবহ

নিহতরা হলেন উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ এবং গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, মোহন আলী ও সুমন আলী।

একই গ্রামের কলিমুদ্দিন এবং ডুবাই গ্রামের সোহেল রানাও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন। পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরদারও এই সাতজনের একজন।

এদিকে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছানোর পর রাত থেকেই থানা কম্পাউন্ডে স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় বাড়তে থাকে।

একনজর প্রিয়জনদের দেখতে এসে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। ফলে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিনা খরচে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে আনা হয়।

প্রবাসী ও দেশের আরও খবর জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও জানুন বিভাগ দেখতে পারেন।

জানাজা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

সম্মিলিত জানাজা শেষে সাতজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। এছাড়া গণ্ডগোহালী গ্রামের চারজনের জানাজা পরে নিজ গ্রামেও অনুষ্ঠিত হয়।

সৌদি আরবের রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় ৯ আগস্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

এতে মোট ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজন আত্রাইয়ের বাসিন্দা। অন্যদিকে অন্য দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারায়।

বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত ও দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসন নিহত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

পাশাপাশি বাকি মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করে দেশে ফেরানোর দাবিও জানিয়েছেন স্বজনরা।

আত্রাইয়ের সাত প্রবাসীর বিষয়ে পরবর্তী আপডেট আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করতে পারেন।

কর্ণফুলীতে নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলা ও সমঝোতার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪২ এম
কর্ণফুলীতে নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলা ও সমঝোতার অভিযোগ

কর্ণফুলীতে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে সাউথ চট্টগ্রাম হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কন্যাশিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির বাবা মো. নাঈম ও মা নিফা আক্তারের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলায়।

পরিবার জানায়, প্রসবজনিত কারণে ১৬ আগস্ট নিফা আক্তারকে শিকলবাহার ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেদিন রাত দেড়টার দিকে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর মা সুস্থ থাকলেও নবজাতকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন ছিল।

কর্ণফুলীতে নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের অভিযোগ

নাঈমের অভিযোগ, হাসপাতালে থাকা অবস্থায় চিকিৎসকদের বারবার ডাকলেও সময়মতো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রাতে ও ভোরে চিকিৎসকের উপস্থিতি চাইলেও যথাযথ সেবা মেলেনি বলে দাবি তার। এই অবহেলার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

পরিবারের দাবি, মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার আলোচনা হয়। এক লাখ টাকার রফাদফার গুঞ্জনের মধ্যে নাঈম প্রায় ৮০ হাজার টাকা লেনদেনের কথা জানিয়েছেন।

তার ভাষ্য, বিল ও চিকিৎসা খরচ বাদ দিয়ে ৪০ হাজার টাকা বড় ভাই ইদ্রিসকে দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও স্থানীয় আরও খবর জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও জানুন বিভাগ দেখতে পারেন।

নাঈম বলেন, স্ত্রী এখনো একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় সম্ভাব্য হয়রানি নিয়েও পরিবার উদ্বিগ্ন।

হাসপাতালের বক্তব্য ও তদন্ত কমিটি

তবে হাসপাতালের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম এক লাখ টাকার সমঝোতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

তার দাবি, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা সত্য হলেও এমন লেনদেন সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, জন্মের পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না।

ঘটনাটি কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নজরে এসেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানিয়েছেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিভিল সার্জনের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

ডা. জেবুন্নেছা বলেন, আর্থিক লেনদেনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তাদের কাছে জমা পড়েনি।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ এবং কারও দায় ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।

পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

কর্ণফুলীতে নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে তাই তদন্তের ফল এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরবর্তী আপডেট আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করতে পারেন।

ইউএস-বাংলার টিকিটিং নীতিতে বাড়ছে এজেন্সিগুলোর আর্থিক ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪২ এম
ইউএস-বাংলার টিকিটিং নীতিতে বাড়ছে এজেন্সিগুলোর আর্থিক ঝুঁকি

ইউএস-বাংলার টিকিটিং নীতি নিয়ে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জিডিএস-ইস্যুকৃত টিকিট বাতিল, এডিএম এবং অনিয়মিত বুকিং নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে বেসরকারি বিমান সংস্থাটি।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইস্যু করা টিকিট একই দিনে বাতিল করতে হবে। সেটিও প্রথম ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে করতে হবে। একই সঙ্গে বুকিংয়ের সব ফ্লাইট সেগমেন্ট একসঙ্গে বাতিল করতে হবে।

ইউএস-বাংলার টিকিটিং নীতিতে কোথায় কড়াকড়ি

উদাহরণ হিসেবে ঢাকা-দুবাই-মদিনা রুটের কোনো একটি সেগমেন্ট রেখে অন্যটি বাতিল করা যাবে না। এমন কার্যক্রম নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল কার্যত নিষিদ্ধের পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

নিয়ম ভাঙলে ১০০ মার্কিন ডলার জরিমানা আরোপ হতে পারে। এর সঙ্গে প্রযোজ্য নো-শো চার্জ এবং অতিরিক্ত ৫০ ডলার প্রশাসনিক ফিও যোগ হতে পারে।

ফলে ছোট ভুলও এজেন্সির জন্য বড় আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আগে অনেক ক্ষেত্রে ভুল সংশোধনের সুযোগ ছিল। তবে নতুন কড়াকড়িতে পরিবারভিত্তিক বা দলীয় বুকিংয়ে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

ভ্রমণ ও এভিয়েশনের আরও খবর জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও জানুন বিভাগ দেখতে পারেন।

এজেন্সিগুলোর জন্য বাড়ছে সতর্কতার প্রয়োজন

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতে টিকিট ইস্যু করে আসন আটকে রাখার অভিযোগ ছিল।

ফ্লাইট সেগমেন্ট বাতিল না করেই টিকিট বাতিল দেখানোর ঘটনাও ঘটত। শেষ মুহূর্তের বুকিং ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও ছিল।

নতুন নীতির লক্ষ্য এসব অনিয়ম কমানো এবং আসন ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল করা। খাতসংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে পেশাদার এজেন্টদের জন্য এটি ইতিবাচক হতে পারে।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে এজেন্সিগুলোকে এখন আরও সতর্ক থাকতে হবে।

ভিসা জটিলতা, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা যাত্রীর হঠাৎ পরিকল্পনা বদল বিশেষ সমস্যা তৈরি করতে পারে।

কারণ সময় ঘনিয়ে এলে জরিমানা এড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

এদিকে ইউএস-বাংলার অফিসিয়াল নীতিতে এজেন্সি থেকে কেনা টিকিটের রিফান্ড সংশ্লিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমেই করতে বলা হয়েছে।

সেখানে বাতিল চার্জ টিকিটের ভাড়ার শর্ত অনুযায়ী প্রযোজ্য হওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

যাত্রীদেরও টিকিট ইস্যুর আগে তারিখ, গন্তব্য, পাসপোর্ট তথ্য এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

ইউএস-বাংলার টিকিটিং নীতি সম্পর্কে আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করতে পারেন।